
ড্রাগস ?? !!

দিপু তৌহিদুল
দিপু তৌহিদুল
পেশাগত যে কোন এনালাইসিস রিপোর্টকে আমি গুরুত্ব দেই। তবে দেশ ভেদে এনালাইসিস রিপোর্টে ভিন্নতা থাকতেই পারে। আমার মতে দ্বিমত পোষণ করাটাই এখনকার সামাজিক অবস্থায় স্বাভাবিক, বাস্তবে আমি ভিন্ন ট্র্যাকে নিয়ে গিয়ে মাদকের বিষয়টার সমাধান চাচ্ছি।
পুলিশ, ডাক্তার, মাদক দ্রব্য ইন্সপেক্টর, মাদক গ্রহণকারীদের সাথে কথা বলে এবং বিডির সামাজিক পারিবারিক আর্থিক রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে এটা আমার নিজের ভাবনা। আমি জানি সকল উন্নত দেশেই মদ বিয়ার ওপেন থাকার পরেও মাদকের থাবা ঠিকই আছে।
আমেরিক্ কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার মাদক নিয়ে পত্রিকায় পাবলিশ রিপোর্ট পড়ার পরে বাংলাদেশের সাথে এর কোন মিল খুঁজে পাইনি। আমাদের আর্থ সামাজিক অবস্থার সাথে উন্নত দেশকে এক করে দেখলে মুশকিল হয় সমাধান খুঁজতে।
বাইরের দেশের পত্রিকা আর্টিকেল ও তাদের দেয়া গ্রাফ দেখে মনে হয়েছে উন্নত দেশে মাদক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আছে। এর কারন উন্নত দেশেঃ পুলিশ ড্রাগস নিয়ে ভীষণ সিরিয়াস ও সৎ, তাদের আনন্দ ফুর্তি করার অনেক মাধ্যম রয়েছে, বেকার সমস্যা তারা নানা উপায়ে লাইনে রাখে, তাদের শিক্ষা কারিকুলাম যুগের সাথে মিলিয়ে প্রণীত, ড্রাগস ম্যাটারে সরকার আমলা জন প্রতিনিধিরার সততার সাথে একযোগে কাজ করে। দুঃখ জনক ভাবে এসবের কোনটিই আমাদের নেই, হবেও না। হাজার হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য কে ছাড়বে বলুন ?
যেনতেন বুঝিয়ে পার করছে সবাই। এর চাইতে বেটার অপশন মদ, জুয়া, গাঁজা উন্নত বিশ্বর আদলে আইন আর লো ট্যাক্স আরোপ করে বৈধতা দিয়ে দেয়া। এতে করে ড্রাগস অনেক পিছিয়ে যাবে, তবে ড্রিংক জনিত সমস্যা বাড়বে, সেটাও স্বীকার করি, সেটা ফেইস করা সহজ হবে ড্রাগসের তুলনায়।
এখন ড্রাগস ও ড্রিংক দুটোই চলছে সমান তালে, কোনটিই বন্ধ নয়। এলিট ক্লাস ঠিকই নিজেদের জন্য মদ বিয়ার লিগাল করে রেখে বারে আর ফাইভ স্টার হোটেলে। এতে লাভ হচ্ছে একক পুরোটা এলিটের। এলিট নিজেও চায় তার নিচের শ্রেণি ড্রাগ নিয়ে মেতে থাকুক, যাতে তাদের আর্থিক শক্তির প্রতিযোগীর সংখ্যা কম থাকে।
মদ, বিয়ার, গাঁজা যদি লিগ্যাল হয়ঃ তাহলে সরকার বৈধ ট্যাক্স পাবে, ড্রাগসের বিকল্প কম ক্ষতির উপাদান হিসেবে ড্রাগ চাহিদা কমিয়ে দেবে, বৈধ লো ট্যাক্স থাকলে দাম কমের জন্য ক্রাইম রেট কমে যাবে, তরুণ তরুণীরা মদে আসক্ত হয়ে পড়লে তা থেকে ফিরিয়ে আনা ড্রাগসের তুলনায় সহজ হবে। এ বিষয়ে সমাজের বহু ধরনের শ্রেণির সাথে আলাপ করে দেখেছি, সমর্থন ভালোই আছে কিন্তু ট্যাবু ভেঙ্গে কেউই আগ বেড়ে কথাগুলি বলতে পারছে না। ভিকটিম হবার পরে একদিন বলবেন মদ বিয়ারই তো ভালো ছিল, এতে ছেলে বা মেয়েটা ধ্বংস হয়ে যেতো না ! সেই দিনের অপেক্ষায় দেশের ঘুমাচ্ছেন সবাই এক কাতারে।
এই দেশে যখন লিগালি স্বল্প পরিসরে মদ বিয়ার বিক্রিই হচ্ছে ! তাহলে টেস্ট কেইস হিসেবে চেষ্টা করে দেখতে দোষ কি ! পত্রিকার তথ্য মতে ইয়াবাতেই খরচ হচ্ছে ৬ হাজার কোটি টাকা, বাকি ড্রাগসের হিসেব যোগ করলে চিত্রটা সত্যি ভয়ানক। এই লেনেদেনে রাষ্ট্রীয় খাত ক্ষতি ছাড়া কোন কিছু পায় না।
বিডির ড্রাগস বাণিজ্যর আর্থিক ফিগার বলে দেয় আমাদের বিকল্প সিদ্ধান্ত দ্রুত নেয়া জরুরী। মাদক বিরোধী ক্যাম্পেইন, অভিযান, ক্রস ফায়ার দিয়ে এটা কোনদিন নিয়ন্ত্রণে আসবে না।
অসততার নিয়মিত প্র্যাকটিসের দেশে টেকনিক্যাল সিদ্ধান্ত নিলে তারুণ্যর পাশাপাশি ভিকটিম পরিবারগুলি বেঁচে যাবে পুরোপুরি না হলেও।
এটা আজকে আমার একক চিন্তা, বিশ্বাস করি আজকে দ্বিমত থাকলেও আগামীতে পক্ষে মতামত আসবে। তবে ততদিনে পানিও অনেক দূর গড়িয়ে যাবে, কারন ঢালু জমিটা তৈরি করাই আছে।



