
নিউইয়র্কে গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের ৯৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন
রূপসী বাংলা প্রবাস ডেস্ক: বর্ণিল আয়োজনে নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো উপমহাদেশের প্রখ্যাত গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশ প্লাজা মিলনায়তনে গান ও কবিতার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়।
https://www.facebook.com/RuposhiBanglaNyc/videos/2021424991212106/
আয়োজনে ছিল সদ্য প্রতিষ্ঠিত ‘গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার স্মরণ সংসদ, নিউইয়র্ক’। কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট গোপাল সান্যালের সঞ্চালনায় ও সাপ্তাহিক ঠিকানার প্রধান সম্পাদক মুহম্মদ ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক প্রবাসী কবি, সাহিত্যিক ,সাংবাদিক, কন্ণ্ঠশিল্পীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। অনুষ্ঠানে আবৃত্তি শিল্পী মুমু আনসারী শুভেচ্ছা বক্তব্যে গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের সংক্ষিপ্ত জীবন পরিচয় তুলে ধরেন। বক্তব্য দেন সংগীতজ্ঞ মুত্তালিব বিশ্বাস, মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম, সাংবাদিক ইব্রাহীম চৌধুরী, ওবায়দুল্লাহ মামুন, আহমেদ মাযহার, মুজাহিদ আনসারী, কবি শামস আল মমীন, কামরুল হোসেন মিঠু, মোশারফ হোসেন, হুসনে আরা, শিতাংশু গুহ, শুভ রায়সহ অন্যান্যরা।

বক্তারা জানান, গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার ১৯২৫ সালে ৫ ডিসেম্বর পাবনার ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগর গ্রামে জন্ম নেন ‘গানের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার যে অবদান রেখেছেন তা অনস্বীকার্য। তার অবদানকে স্মরণ করতে এবং নতুন প্রজন্মকে এই মহান শিল্পীর অবদানের কথা জানাতে তার জন্মস্থান পাবনায় স্মৃতি রক্ষা খুবই জরুরি বলেও অভিমত প্রকাশ করেন তারা। ৭১ এর কণ্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায় তার প্রায় ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ স্মৃতিতে গৌরীপ্রসন্নকে তুলে ধরেন। একাত্তরে স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের পরিচয়ের সূত্রে স্বল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে গৌরীপ্রসন্ন তাকে স্নেহের বন্ধনে আবদ্ধ করেছিলেন এবং বাংলাদেশের প্রতি তার অসীম ভালবাসার কথাও উল্লেখ করেন তিনি ।

সঙ্গীত পর্বে যোগ দেন ৭১ এর কণ্ঠযোদ্ধা শহীদ হাসান এবং শুরু করেন গীতিকার গৌরী প্রসন্ন মজুমদারের ‘শোনো একটি মজিবরের কণ্ঠ থেকে লক্ষ মজিবরের কণ্ঠে সুরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি’ গান দিয়ে আর শেষ করেন ‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’। এই গানটি ২০০৪ সালে বিবিসির জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ২০টি বাংলা গানে ঠাঁই পেয়েছিল। গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের জনপ্রিয় গানের মাঝে রয়েছে মাগো, ভাবনা কেন, আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে, বাঁশি শুনে আর কাজ নাই সে যে ডাকাতিয়া বাঁশি,ও নদীরে একটি কথা শুধাই শুধু তোমারে, এই সুন্দর স্বর্ণালি সন্ধ্যায় এ কী বন্ধনে জড়ালে গো বন্ধু, এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে থাকে না তো মন,কেন দূরে থাকো শুধু আড়াল রাখো কে তুমি কে তুমি আমায় ডাকো, এই পথ যদি না শেষ হয়, আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা থাকে, প্রেম একবার এসেছিল নীরবে, এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হতো তুমি বলো তো…….




