নিউ ইয়র্কে জালালাবাদের সাধারণ সভায় মারামারি, বহিষ্কৃত মইনুল-শেফাজ
নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশী প্রবাসীদের অন্যতম আঞ্চলিক সংগঠন যুক্তরাষ্ট্রে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার সাধারণ সভায় হাতাহাতি ও চেয়ার তুলে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সংগঠনের বর্তমান সভাপতি বদরুল খান ও সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। পরে নিউ ইয়র্ক পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। তবে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের ভবন ক্রয়কে কেন্দ্র বিদ্যমান সংকট নিরসনে গেল ১১ জুন (রবিবার) এক সাধারণ সভা ডাকা হয়। কিন্তু বদরুল হোসেন খানের নেতৃত্বাধীন অংশটি সংকট নিরসনের পথে না গিয়ে তাকে আরো গভীর করে তুলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন তাড়া জালালাবাদকে আরও বিভক্ত করার ব্যবস্থা করেছেন।
জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা হয়েছে ৩৮ বছর। জানা গেছে, ৩৮ বছর ধরেই নানাভাবে সংগঠনটির নিজস্ব ভবন কেনার চেষ্টা করা হলেও সে চেষ্টা কখনও বাস্তবতার মুখ দেখে নি। বারবার ভবনের জন্য ফান্ড রেইজিং করা হয়, কিন্তু ভবন হয় না। যারাই নির্বাচিত হন তারা কেবল তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ব্যস্ত থাকেন। তাদের নির্দেশে না চললে বিপদ। এবারের সাধারণ সভায়ও তাই হয়েছে বলে সদস্যরা জানিয়েছেন।
এবারে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভায় আর্মস সিকিউরিটি দিয়ে যেভাবে সকলকে চেক করা হলো, তাতে মনে হয়েছে অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা নন, ভেতরে সন্ত্রাসী ঢুকতে যাচ্ছে। এমনকি যারা ভবনের পক্ষে তাদের চিহ্নিত করে ঢুকতে দেওয়া হয় নি। সিকিউরিটির আচরণে অনেকেই বিব্রত হয়েছেন। তারা জানান, অর্থের বিনিময়ে সিকিউরিটি এনে তাদের অপমান করা হয়েছে। অনেকেই এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।
সভাপতি বদরুল খান বলেন, ‘১৫ হাজার সদস্যের প্রবাসের সবচেয়ে বড় সংগঠন একটি গঠনতন্ত্র মেনে চলে। আমরা গঠনতন্ত্র মেনে সবার মতামতের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে (মইনুল ইসলাম) প্রথমে অর্থ আত্মসাতের জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন হল ভর্তি মানুষের উপস্থিতিতে সাধারণ সভায় মইনুল ইসলামকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত করা হয়। বহিষ্কারাদেশ ২৫ জুন থেকে কার্যকর হবে।’
এদিকে মইনুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী রোববার এস্টোরিয়ার জালালাবাদ ভবনে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। ৩৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ সংগঠন দু চারজনের স্বেচ্ছাচারিতায় চলতে পারে না। আমি নির্বাচিত প্রতিনিধি। আমাকে পুলিশ দিয়ে বের করে দেওয়া হলো। আগামী সাধারণ সভায় জালালাবাদবাসী (সিলেটবাসী) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেফাজকেও সাধারণ সভায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। প্রশ্নবিদ্ধ এ সাধারণ সভা তিনি মানছেন না।



