শুধিতে এসেছিলাম,জন্ম জন্মান্তরের পিতৃত্বের ঋণ,
এখন বুকের মধ্যে শুধুই আর্তনাদের বারুদ!
উন্মাদের মতো জাপটে ধরেছি সেদিন রক্তে প্লাবিত নিথর দেহ ,
সঞ্চিত তপস্যায় চুমেছি বজ্র কঠিন অঙ্গীকারের ললাট।
ধুম্রকুন্ডলীর ছদ্মবেশে বিশ্বাসঘাতকের সদ্য ছেড়ে যাওয়া নিঃশ্বাস –
তমসাচ্ছন্ন করেছে চারিদিক
সে বিশ্বাসঘাতকতার পরতে পরতে সহোদরের গায়ের গন্ধ ,
বিস্ময়ে অর্ধচেতন মন আমার দিশেহারা – ভূলুণ্ঠিত পরাজিত দেহ
স্বজনের পশুবৎ অস্তিত্বের গ্লানি কুরে কুরে খেয়েছে আমার অস্থিমজ্জা।
বিকারগ্রস্ত দখলদারিত্বে রক্তপিপাসুদের আখড়া জমে উঠেছিল বৈকি,
তথাপি ভিনদেশী অমানবেরা ছুঁতে পারেনি আমার পিতার শুভ্রতার বলয়,
নির্ভীক প্রাণের ক্ষণজন্মা তনু ছোঁবে এমন সাধ্যটি কার?
ঘরশত্রুর বিশ্বাসঘাতকতার বুলডোজারই তখন শেষ ভরসা-
উপায়হীনদের ন্যাক্কারজনক কাপুরুষতা।
অঙ্গুলীর ডগায় অতঃপর প্রায়শ্চিত্ত তুলে নিয়েছি
অপেক্ষার অসহিষ্ণুতায় লিখে যাচ্ছি মহাকালের দিনলিপি
সুজনের ইন্দ্রিয় অসাড়তায় যে বিষবৃক্ষের জন্ম এই মাটিতে হয়েছে-
তার উৎপাটনের আরাধনায় ক্রম ক্ষীয়মাণ হচ্ছি,
তবুও শেষ নিঃশ্বাস অবধি বিষধর শেকড়ের শেষ জঞ্জালটুকু সরিয়েই যাব –
আর প্রতীক্ষায় রবো সেই প্রত্যুষের,
যেদিন জাতির পিতার শ্রেষ্ঠত্বের অবয়ব জাতির সব সন্তানের চেতনায় হবে সমাপাতিত।



