অনুবাদ: মাজহার জীবন
ক’দিন আগে ইউরোপিয় ইউনিয়নের রেফারেন্ডাম হয়ে গেছে। রাহা নিত্যদিনের মতোই তার প্রতিবেশীকে সম্ভাষণ জানাল। কিন্তু সে স্বাভাবিক উত্তরের বদলে তার কাছ থেকে একটা ফিসফিস আওয়াজ শুনতে পেল।।
‘দেশে ফেরত যাও।’
‘কি বললে মেরি?’
‘ঠিকই শুনেছ। দেশে চলে যেতে বলেছি।’
রাহা এত কষ্ট পেল যে আর কোনও কথাই বলল না। কিন্তু ও বাড়ি ফেরার পথে চিন্তা করতে লাগল মেরিই যদি তাকে এমন কথা বলতে পারে তাহলে অপরিচিতরা কি বলবে? ‘কি হয়েছে, লক্ষীটি?’ বাড়ি ফিরলে তার স্বামী পল জানতে চাইল।
‘আমাদের ইরানে গিয়ে ওখানেই থিতু হওয়া উচিত। ওখানকার সবাই তোমাকে পছন্দও করে। আমরা যখন ওখানে গিয়েছিলাম তোমার কি এমনটা মনে হয় নি?’
‘তা মনে হয়েছে। কিন্তু তখন তো ওখানে আমরা কেবল বেড়াতে গিয়েছিলাম। আর ওখানে থেকে যাওয়া কি অন্য বিষয় না?’
‘মনে আছে আমাদের বিয়ের দিন তুমি ওয়াদা করেছিলে?’
‘তোমাকে আপসেট দেখাচ্ছে।’
‘আমি দেশে চলে যেতে চাই। তুমি কি আমার সাথে যাবে কি না তাই বল?‘
‘আমি তোমার সাথে যে কোনও জায়গায় যাব কিন্তু তুমি কি বাড়িতেই নও? ‘
‘তুমি আছ কিন্তু আমি না।’
‘আমাকে বল কি হয়েছে।’
‘এইমাত্র মেরি আমাকে দেশে চলে যেতে বলল।’
‘তো?’
‘আমি এমন দেশে কাজ করে ট্যাক্স দিতে চাই না যে দেশ আমাকে চাই না। এটা অদ্ভুত। এই দেশটা শতাব্দীর পর শতাব্দী দুনিয়া চুষে খেয়েছে আর এখন এরাই আমাদেরকে সমস্যা মনে করে অভিযোগ করছে।’
‘এক থাকার জন্য তোমাকে ভোট দিতে বলেছিলাম।’
‘তুমি তো জানো আমি কখনও ভোট দেই না। এক দল ক্যাপিটালিস্ট সরিয়ে আরেক দলকে ক্যাপিটালিস্টকে ক্ষমতায় এনে কি লাভ?’
‘স্বাভাবিকভাবে আমি তোমার সাথে একমত কিন্তু এবারের রেফারেন্ডামটা ছিল আলাদা। তাই এবার ভোট দিতে বলেছিলাম। যাহোক, এরপর মেরির সাথে দেখা হলে বলব অনেক ইমিগ্রান্ট পালিয়ে যায় শুধু বৃটেনসহ পশ্চিমা দেশগুলোর বোমা হামলার কারণে।’
‘ তা বলতে পারো। তখন মেরি হয়ত প্রশ্ন করবে এতজন রেখে তুমি কেন এক ইমিগ্রান্টকে বিয়ে করেছ।’
এ ঘটনার কিছুদিন পর রাহার ভাই এরাম পল আর তার জন্য তেহরান এয়ারপোর্টে অপেক্ষা করছে।
‘আমরা সবাই অবাক হলাম এই অবস্থায় তোমরা এখানে আসার সিদ্ধান্তে। তোমাদের এখানে কতদিন থাকার ইচ্ছে?’
‘কোন্ অবস্থা? কি বলছ তুমি?’
‘মা তোমাদের কিছু বলে নি? তোমরা আসা বাতিল করো সেই ভয়ে মা নিশ্চয়ই কিছু বলে নি।’
‘কি হয়েছে বল?’
এরাম একটা লিফলেট বের করে রাহার হাতে দিল।
‘আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না। এখানেও একই ব্যাপার।’ লিফলেটের হেডলাইন পড়তে পড়তে পলকে বলল, ‘আফগান আর অন্যান্য বিদেশিদের এ শহরে বাস করার অনুমতি নাই।’
পল মাথা নেড়ে উত্তর করলো,’নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় স্বাগতম।’
নাসরিন পারভেজের জন্ম তেহরানে। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবকালীন নাসরিন পারভেজ সিভিল রাইটস একটিভিস্ট ছিলেন। তিনি গ্রেফতার হয়ে নির্যাতনের শিকার হন এবং আট বছর (১৯৮২- ৯০) কারাবন্দী ছিলেন যদিও প্রথমে তাঁর ফাঁসির আদেশ হয়। ১৯৯০ মুক্তির পরও তিনি আন্দোলনের সাথে যুক্ত হওয়ায় আবার গ্রেফতার হন এবং দেশত্যাগের শর্তে মুক্তি পান ও ১৯৯৩ ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান। মিডলসেক্স ভার্সিটি থেকে আন্তর্জাতাক সম্পূকে এমএ। তাঁর উপন্যাস ‘দ্য সিক্রেট লেটার্স ফ্রম এক্স টু এ’ এবং ২০১৯ সালে ইন্টারন্যাশনাল বুক এওয়ার্ড পাওয়া স্মৃতিকথা ‘ওওমেন’স স্ট্রাগল ইন ইরান: এ প্রিজন মেমওয়া’; ছোটগল্প সংকলন টেম্পটেশন’ এবং ‘ওমেনস ওয়ার্ল্ড এওয়ার্ড প্রাপ্ত ‘এ ওয়ার এগেইনস্ট ওমেনহুড।’



