
বঙ্গবন্ধু খুনীদের বহিস্কারের দাবীতে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইট্স ডেভলপমেন্ট ইউএসএ এর সেমিনার
রূপসী বাংলা প্রবাস ডেস্ক: মানুষ মানুষের জন্য, মানবতা আমাদের অহংকার, হাজার বৎসরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আত্ম স্বীকৃত খুনীদের বিচারের কাঠগড়ায় সোপর্দ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করে অদ্য ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর কুইন্সের জ্যাকসন হাইটস্থ পালকি পার্টি হল সেন্টারে যুক্তরাষ্টের স্বনামধন্য সংগঠন ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভলপমেন্ট ইউএসএ কর্তৃক আয়োজিত সেমিনারে সমাজের বুদ্ধিজীবি, শিক্ষক, লেখক, বুদ্ধিজীবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মীদের উপস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর ৬ জন আত্ম-স্বীকৃত খুনীদের খুঁজে বের করে বাংলার মাটিতে বিচারের দাবী করা হয়। অদ্য ৪৩ বৎসর যাবত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে ২১ জন সদস্যকে কতিপয় বিদ্রোহী সেনাবাহিনীর সদস্য ১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নং বাড়ীতে যখন মসজিদ, মন্দিরে, উপাসনালয়ে প্রভূর প্রার্থনার জন্য মানব সমাজ ব্যস্ত ছিল ঠিক সেই সময় হায়ানার কালো থাবায় বঙ্গবন্ধুর জীবন নাশ হয়। শুধু তাই নহে নরপশুরা শিশু রাসেলকেও বুলেটের আঘাতে ছিন্ন বিছিন্ন করে দেয়। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস খুনী মোশতাক এবং পরবর্তী সরকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু খুনীদের বিচার না করে ইনডেমেনিটি বিল পাশ করে খুনীদের বিচারের পরিবর্তে প্রমোশন দিয়ে বিদেশে রাষ্ট্রদূতের পদমর্যাদা দিয়ে পুরস্কৃত করে। আজ সময় এসেছে আমরা খুনীদের খুঁজে বের করে আমেরিকা কানাডা সহ বিশ্বের বিভিনন্ দেশের সরকারের নিকট আইনগত ন্যায্য দাবী আদায়ের লক্ষে দূর্বার আন্দোলন চালিয়ে যাবার দৃঢ় সংকল্প এবং শপথ করে সকল বক্তাগণ একমত পোষণ করে বক্তব্য পেশ করেন।
উক্ত সেমিনারের প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি ও এ্যাম্বেসেডর মাসুদ বীন মোমেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কন্সাল জেনারেল অব বাংলাদেশ ইন নিউইয়র্ক এর ডাঃ সাদীয়া ফয়জুনন্নেসা, আরও অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মিশনের প্রেস সেক্রেটারি জনাব নূর ইলামী মীনা, ভাইস কন্সাল আসিফ আহমেদ, মাননীয় রাষ্ট্রদূতের সহ ধর্মিনী ফাহমিদা জাবীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা শৈল্য চিকিৎসক ডাঃ মাসুদুল হাসান, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ সিদ্দিকুর রহমান, প্রবাসের অন্যতম সংগঠক আবদুল কাদির মিঞা, ডেমোক্রেট মুর্শীদ আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বাতেন, বিশিষ্ট লেখক সুব্রত বিশ্বাস, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও নিউইয়র্কের স্বনামধন্য সর্ববৃহৎ সংখ্যক পাঠকের প্রিয় সাপ্তাহিক ঠিকানার সম্পাদক ফজলুর রহমান, টাইম টিভি ও বাংলা পত্রিকার সিইও আবু তাহের, অধ্যাপিকা হোসনে আরা, বর্ণমালার সম্পাদক জনাব মাহফুজুর রহমান, যুবলীগের নেতা তারেক, প্রথম আলোর নিউজ এডিটর মঞ্জুর আলম, সাপ্তাহিক জনতার সম্পাদক সামশুল আলম, রূপসী বাংলা অনলাইন এবং ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভলপমেন্ট পরিচালনা পরিষদের ডাইরেক্টর শাহ্ জে চৌধুরী, এটিএন বাংলার নিউজ কাস্টার কানু দত্ত, মহিলা আওয়ামীলীগের নেত্রী নূরুন নাহার গিনি, মানবাধিকার কর্মী বাবলী হক, বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী বীনা বর্মন, শিল্পী শাহানা পারভীন, বঙ্গবন্ধু নাট্য পরিষদের সভাপতি ইসমাইল খান আনসারী, সাধারণ সম্পাদক ড. নার্গিস রহমান, মানবাধিকার কর্মী খায়রুল খায়ের। নিউজ কাস্টার জনাব সালাউদ্দিন, ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাসইট এর সংগঠক বাবলী হক, ওয়ার্ল্ড রোহিঙ্গা এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নাসির আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাঈল হোসেন খাঁন আনসারী, বিশিষ্ট লেখিকা সেলিনা প্রমুখ। সভার শুরুতে ৭১ এর স্বাধীনতা আন্দোলনে ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা স্বরূপ ১ মিনিটের নীরবতা পালন ও জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অত্যন্ত ভাব গাম্বীর্যের মাধ্যমে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভলপমেন্টের সভাপতি শাহ্ শহীদুল হক (সাঈদ), জনাব আশরাফুল ইসলাম বুলবুলকে অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেন। চেয়ারপারসন ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ মাসুদুল হাসান।
প্রধান অতিথি জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং এ্যাম্বাসেডর মাসুদ বিন মোমেন তার সুদীর্ঘ বক্তব্যের প্রারম্ভে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইট্স ডেভলপমেন্টের সভাপতি শাহ্ শহীদুল হক (সাঈদ) কে এ ধরনের সেমিনারের আয়োজনের জন্য ভূয়সী প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে দৃঢ় সংকল্প, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে রোল মডেল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে তিনি গোটা বিশ্বের নিকট শ্রদ্ধার পাত্র। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশ, রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আস্থার পরিবেশ বিনির্মানে পদক্ষেপ নিতে হবে, নতুবা প্রত্যাবাসন টেকসহ সম্ভব নয়। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করেছেন। এজন্য নিউ জেনারেশনকে ইনবলভ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর খুনীরা জাতীয় শত্রু, চিহ্নিত খুনীদের বিরুদ্ধে, আমরা কূটনৈতিক মহলে কাজ করে যাচ্ছি এ জন্য সকল মহলের উদ্যোগ নিতে হবে। পার্টনারশীপ কার্যকারিতা ফল বয়ে আনবে।
কনসাল জেনারেল ডাঃ সাদীয়া ফৌজিয়া তার বক্তব্যের প্রারম্ভে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভলপমেন্টের সভাপতি শাহ্ শহীদুল হক (সাঈদ) এর নেতৃত্বে এ ধরনের সভা, সেমিনার, টাউন হল মিটিং আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, আমি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান, জাতির জনকের আত্মস্বীকৃত খুনীদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনে আইনগত কোন বাধা নেই। প্রয়োজন সকল প্রবাসীদের সাহায্য ও সহযোগিতা, আপনাদের মত সাহসী পদক্ষেপ কার্যকরী ভূমিকা রাখবে, আমরা আন্তর্জাকিভাবে কাজ করছি যা কূটনৈতিক গোপনীয়তা রক্ষা প্রয়োজন, তবে প্রবাসীদের সাহসী উদোগ আমাদের প্রেরণার উৎস। এ ধরনের সেমিনার করে নিজ নিজ এলাকার জনপ্রতিনিধির নিকট পাবলিক স্বাক্ষর কালেকশন করে কংগ্রেসম্যানদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সাপোর্ট প্রয়োজন, যাতে করে আমাদের অগ্রগতির সহায়তা বয়ে আনবে। স্বাধীনতার ইতিহাস এবং বঙ্গবন্ধুসহ স্বপরিবারে নৃশংশ হত্যার ইতিহাস পাঠ্য পুস্তকে অর্ন্তভূক্ত করতে হবে। সরকার বঙ্গবন্ধুর খুনীদেরকে দেশে ফিরিয়ে নেবার সার্বিক তৎপরতা বজায় রাখছে। রাষ্ট্রদূত সহধর্মিনী এবং প্রাক্তন ইউনাইটেড নেশনে কর্মরত বুদ্ধিজীবি ফাহ্মিদা জাবীন তার বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে বিচারের কাঠগড়ায় সোপর্দ করার পদক্ষেপ সময়ের দাবী বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন আমি আমার সকল শক্তি দিয়ে আপনাদের পাশে থাকব। আপনাদের মত সাহসী পদক্ষেপ প্রশংসার দাবীদার। ডাঃ মাসুদ বলেন পাক বাহিনী আমার চোখের সামনে আমার পিতাকে হত্যা করেছে। আমি খুনীদের বিচার চাই।
সেমিনারের বক্তাদের মধ্যে অধ্যাপিকা হোসনে আরা রহমান এর বক্তব্যে সকলের চোখে পানি নেমে আসে। তিনি চিৎকার করে বুকফাঁটা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। যার ফলে পুরা সেমিনার কক্ষ হাউমাউ করে কেঁদে উঠে। তিনি বলেন জননেত্রী অনেক কাজ করে বাংলার মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করছেন অথচ খুনীরা এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছে, এই সেমিনার দেখে আমি আমার কান্না রাখতে পারছি না, যা আরো অনেক পূর্বেই প্রয়োজন ছিল। এই সেই খুনী যারা বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করেছে, আসুন, আমরা সকলে মিলে খুনীদের খুঁজে বের করি। তিনি এ ব্যাপারে মাননীয় রাষ্ট্রদূত এবং কন্সাল জেনারেলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আরো বলেন, আমরা যুগ যুগ ধরে আন্দোলন করে যাব, আমরা খুনীদের বিচার ত্বরান্বিত চাই।
সেমিনারে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের খুজে বের করে বাংলার মাটিতে বিচারের আনার স্বপক্ষে আরো বক্তব্য রাখেন, সাপ্তাহিক ঠিকানার প্রধান সম্পাদক সর্ব জনাব ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, কিন্তু জাতির পিতার নৃশংস হত্যা ভুলে গেলে চলবে না, আমরা আপনাদের সাথে আছি এজন্য প্রয়োজনে সঠিক উদ্যোগ। আরো বক্তব্য রাখেন বর্ণমালার সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, বাংলাদেশ আমেরিকান ফ্রেন্ড সোসাইটির প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকান গোলাম মেহরাজ, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন, টাইম টিভি এবং সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার সিইও আবু তাহের। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচার সকলের দাবী, আমি সে দাবীর পক্ষে।
https://www.facebook.com/RuposhiBanglaNyc/videos/251810908829435/
সবার শেষে সংগঠনের সভাপতি শাহ শহীদুল হক (সাঈদ) বলেন, খুনী সেখানেই আত্ম গোপন করে থাকুক না কেন, আমরা তাদের খুঁজে বের করবই। তিনি লজ এঞ্জেলে পালিয়ে থাকা খুনী রাশীদ চৌধুরী এবং কানাডার মনট্রিলে আত্ম গোপনকারী নূর চৌধুরীর বিরুদ্ধে আশু ব্যবস্থা গ্রহণে প্রতিজ্ঞা বদ্ধ হন। তিনি বলেন আমেরিকাতে পালিয়ে থাকা ১৯৪৩ সালের ঐড়ষড়পধঁংঃ ঈড়হারপঃবফ ৯৫ বৎসর বয়স্ক ঘধঃুর সাম্প্রতিক জ্যাকসন হাইটস থেকে ওঈঊ কতৃক বহিস্কার হয়েছে সুতরাং বঙ্গবন্ধুর খুনীদের যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে বহিস্কার করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আমরা আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। আজকের সেমিনারে দূর দূরান্ত থেকে কষ্ট করে যারা অংশগ্রহণ করেছেন বিশেষ করে সকল সংবাদ মাধ্যমের সম্মানিত কর্মকর্তাবৃন্দ, মাননীয় রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এবং কনসাল জেনারেল ডাঃ সাদীয়া ফয়জুন্নেছাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে এবং যারা আজকের এই সেমিনারকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সভার কার্য সমাপ্তি ঘোষনা করেন। অতপর নৈশভোজের মাধ্যমে সেমিনার শেষ হয়।





