ভারত

ভারতে ৭ দিনের মধ্যে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বাস্তবায়নের ঘোষণা বিজেপি মন্ত্রীর

আগামী সাত দিনের মধ্যেই বাস্তবায়িত হবে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট (সিএএ)। আজ সোমবার এমনটাই জানিয়েছেন, বিজেপি সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের সময় তিনি এ কথা বলেছেন।

শান্তনু ঠাকুর পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চল বনগাঁও থেকে নির্বাচিত লোকসভা সদস্য। তিনি পশ্চিমবঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্থানীয় মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতা। তিনি বলেছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যেই এই আইন প্রয়োগ শুরু হবে। শান্তনু ভারতের কেন্দ্রীয় বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এর আগে, গতকাল রোববারও তিনি একই ধরনের মন্তব্য করেছেন।

বিজেপির এই মন্ত্রী বলেন, ‘সিএএ শিগগিরই কার্যকর করা হবে। এটি সাত দিনের মধ্যে কার্যকর করা হবে। এটি আমার গ্যারান্টি।’ তিনি দাবি করেন, এ বছর লোকসভা নির্বাচনের আগে দেশে সিএএ কার্যকর করা হবে।

এর আগে, ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর ভারতের পার্লামেন্টে পাস হয় বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন। পরদিনই দেশটির রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে জারি হয় বিজ্ঞপ্তি। কিন্তু তারপর প্রায় চার বছর পেরিয়ে গেলেও সিএএ কার্যকরের বিধিই তৈরি হয়নি এখনো। এই আইন নিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা হয়েছে।

মূলত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে অমুসলিম শরণার্থীদের শর্ত সাপেক্ষে ভারতে নাগরিকত্ব দিতে নতুন এই আইনটি পাস হয়। আইনটিতে বলা হয়, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, পারসি, শিখ ও জৈনধর্মাবলম্বীরা শরণার্থী হয়ে ভারতে আসতে বাধ্য হলে তাঁদের সরকার চাইলে নাগরিকত্ব দিতে পারবে।

শান্তনুর মন্তব্যের বিপরীতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। দলটি এই মন্তব্য ও আইন ‘বিভাজন সৃষ্টিকারী’ বলে আখ্যা দিয়েছে। এ বিষয়ে তৃণমূলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ বলেন, ‘আমাদের দলের প্রধান ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে সিএএ প্রয়োগ করা হবে না। বিজেপি নেতারা লোকসভা নির্বাচনের আগে এ ধরনের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজনৈতিক কৌতুক করার চেষ্টা করছেন।’

এর আগে, গত মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জোর দিয়ে বলেছিলেন, সিএএ বাস্তবায়ন অনিবার্য। কারণ, এটি দেশের আইন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension