
মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্তাব্যক্তিরা কঠিন কোনও ষড়যন্ত্রে জড়িত?
করোনার চেয়ে বড় দুর্যোগ পৃথিবীতে আর কোনওদিন আসে নি কোন কিছু। এবং জাতিও মোকাবেলা করে নি এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি। অতীতের দুর্নীতিগ্রস্থ মন্ত্রীপরিষদের অনেক সদস্যদের তিক্ত অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে ভালো কিছু পেতে নতুন মন্ত্রিপরিষদ আর সে পরিষদে কিছু নতুন সদস্য পেয়েছি আমরা। যার মধ্যে অন্যতম অথর্ব আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। যার পুর্বপুরুষ এবং তার রাজনৈতিক অতীতটাও সমালোচিত,বিতর্কিত। আর অযোগ্যতার নমুনাটি জাতি পেয়েছে করোনা নামক দুর্যোগের আবির্ভাব ঘটেছে বলে।
কৈশোরের প্রথম প্রেমই ছিল বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আর ছাত্রলীগ নামক সংগঠন। জীবনের দুই তৃতীয়াংশ সময় এই প্রেমাসক্তি আর সংগঠনটির সান্নিধ্যে কাটানোয় আবেগের অনেকটা জায়গা জুড়ে এর অস্তিত্ব। এর ভালোমন্দে নিজের ভালো থাকা,মন্দ থাকাটাও জড়িত।
হঠাৎ একটা ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে মাথায়। যেটা ভেবে ভেবে করোনার চরম নিদানের দুশ্চিন্তা আর মন খারাপের সাথে যোগ হয়েছে আরেকটা দুশ্চিন্তা।
আচ্ছা বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছিল, পরিকল্পনায় যারা জড়িত সবাই কমবেশী তার কাছাকাছি অবস্থান করত। অনেকের মতো বঙ্গবন্ধুকে খুনের দায়ে সদ্য ফাঁসি হওয়া আব্দুল মাজেদও তাঁর বাসায় অবাধে যাতায়াত করত। বাসার বাচ্চাদের নিয়ে নাকি ব্যাডমিন্টন খেলত। আর মুল কালপ্রিট হিসেবে যাকে জানি তার কথা নাইবা বললাম। সে বঙ্গবন্ধুর ছেলের বিয়ের সময় উকিল বাবা হয়েছিল। তাঁর পিতার লাশ দাফনে কবরে নেমে নিজ হাতে শুইয়েছিল। হত্যার আগের দিনও নাকি হাঁসের মাংস রান্না করে বঙ্গবন্ধুকে খাইয়েছে। অথচ তারাই বিশ্বাসের সর্বোচ্চ স্থানটিকে পায়ে তলায় পিষে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।

বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যা কন্যা ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়ে আজ সংগঠনকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সুসংগঠিত করেছেন। চারবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে অসাধারণ যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে দেশকে অলৌকিক এক উন্নতির উচ্চশিখরে নিয়ে গিয়েছেন।
বাংলাদেশের দারিদ্র্যতা বিমোচিত হয়েছে। অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটেছে। অর্থনৈতিক মুক্তি মিলেছে। মৌলিক চাহিদার নিশ্চয়তা নিশ্চিত হয়েছে। সর্বোপরি এ দেশের মানুষের কলঙ্কের কালিমাও কিছুটা মোচন হয়েছে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পাদন এবং একে একে ফাঁসির রায় কার্যকরের মাধ্যমে।
অকল্পনীয় সফলতা, মানুষের সর্বোচ্চ ভালোবাসার মানুষে পরিণত হওয়া আর ষড়যন্ত্রকারীদের দুর্গ দুমড়ে মুচড়ে দেওয়ায় তারা আবার সুসংগঠিত হচ্ছেনা তো? নতুন করে আবার ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা করছেনা তো শেখ হাসিনার সকল সফলতাকে ভুলুন্ঠিত করতে? সার্থকতার স্বীকৃতিটায় কালিমা লেপন করে এ দেশের মানুষের হৃদয়ে ক্ষোভ, কষ্ট আর ক্ষত তৈরি করে, ভালোবাসার ঘাটতি ঘটিয়ে নতুন কোনও বিধ্বংসী কর্মকান্ড সম্পাদন করতে?
ভাবনাটা কেন এল?
করোনার চেয়ে বড় দুর্যোগ পৃথিবীতে আর কোনওদিন আসে নি কোন কিছু। এবং জাতিও মোকাবেলা করে নি এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি। অতীতের দুর্নীতিগ্রস্থ মন্ত্রীপরিষদের অনেক সদস্যদের তিক্ত অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে ভালো কিছু পেতে নতুন মন্ত্রিপরিষদ আর সে পরিষদে কিছু নতুন সদস্য পেয়েছি আমরা। যার মধ্যে অন্যতম অথর্ব আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। যার পুর্বপুরুষ এবং তার রাজনৈতিক অতীতটাও সমালোচিত,বিতর্কিত। আর অযোগ্যতার নমুনাটি জাতি পেয়েছে করোনা নামক দুর্যোগের আবির্ভাব ঘটেছে বলে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ঐশ্বরিক ক্ষমতাবলে একক যোগ্যতা আর সিদ্বান্তে আর্থিক প্রণোদনা প্রদান, লকডাউনসহ সকল ব্যাপার সিদ্ধহস্তে পরিচালনা করে করোনার প্রাদুর্ভাবকে অনেকটা হয়ত মোকাবেলা করেছেন।

কিন্তু জাতির এই সর্বোচ্চ বিপদকালীন মুমূর্ষু সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী জাতীয় সংস্থা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং চিকিৎসা সেবা পণ্য নিশ্চিতকারী সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের জ্ঞাতেই একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ছোট্ট একটি ভুল করল! তারা ডাক্তারদের জন্য খুব সামান্য, মাত্র বিশ হাজার নকল মাস্ক সরবরাহ করল। সামান্য ব্যাপারই তো, বিশ হাজার মাস্কের আসল নকলের দামের তারতম্যই বা কত? জাতীয় পর্যায়ের সরবরাহে এটা বড় কোনও সংখ্যা নয় নিশ্চয়ই?
সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটির প্রধান দাবী করলেন দক্ষ কর্মচারী অনুপস্থিত থাকায় এটি ভুলক্রমে প্যাকেটজাত হয়েছে, হতেই পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বড়কর্তা সাফাই গাইলেন ওটা ভুলে হয়েছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের বড়কর্তাও মিডিয়ায় একই সুরে সুর মেলালেন,ভুলে হয়েছে।
কিন্তু ভুল স্বীকার করার আগে এটিকে যারা নকল বলেছে তাদের বিরুদ্ধে ঠিকই বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে অধিদপ্তর।
এবার আসল দুশ্চিন্তার ব্যাপারটা অনুধাবন করুন।
মাস্কটি এন-৯৫ নামক লোগো সম্বলিত এবং এটার স্বত্বাধিকারী আমেরিকার একটি প্রতিষ্ঠান। এই নামে কোনও মাস্ক তৈরি করতে হলে তাদের অনুমতি নিতে হবে। আমাদের দেশে জেএনআই নামক প্রতিষ্ঠানটি আমদানির নামে মুন্সিগঞ্জে বিনা অনুমতিক্রমে তৈরি করেছে এটি। কিভাবে সম্ভব হলো সবার জ্ঞাতে এটি! আবার তারা ভুলে দিয়েছে বলছে। তাহলে নকলটি কাদের জন্য এন-৯৫ নামে তৈরি হয়েছে? যার পুরোটাই এই দুটি দপ্তর এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জ্ঞাতেই সরবরাহ করা হয়েছে।
উল্লেখ করা দরকার, এই জেএনআই প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী জামায়াতে ইসলাম নামক সংগঠন সংশ্লিষ্ট। তাহলে কি মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের কর্তাব্যক্তিরা তাদের সাথে সখ্যতার মাধ্যমে কঠিন কোনও ষড়যন্ত্রে জড়িত?
এই মাস্কটি শুরুতেই নকল হিসেবে প্রত্যাখ্যাত না হলে এটি বিশহাজার বা কাছাকাছি সংখ্যক ডাক্তার, নার্স ব্যবহার করতেন। তাঁরা করোনা সংক্রমিত হতেন। তাঁরা যাদেরকে চিকিৎসা সেবা দিতেন সকলেই সংক্রমিত হতো। তাদের প্রত্যেকের পরিবার সংক্রমিত হতো। ডাক্তাররা সংক্রমিত হয়ে বিনাশ হতেন এবং পুরো জাতি চিকিৎসা সেবাহীন অবস্থায় মারা যেত। অথবা কঠিন সংকটময় অবস্থায় পর্যবসিত হতো।
পৃথিবীর সবচেয়ে সংক্রমিত দেশ এবং সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যর্থ শাসন এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার দেশে রুপান্তরিত হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত হয়ত বড় অংশ। ভুলুন্ঠিত হয়ে যেত সিদ্ধহস্ত শেখ হাসিনার সকল বিস্ময়কর অর্জন।
এভাবেই কি বিকল্প পন্থায় প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিল একাত্তর আর পঁচাত্তরের প্রেতাত্মারা!
হয়ত সৃষ্টিকর্তা চেয়েছিলেন বলেই পঁচাত্তরে ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। বাইশবার হত্যা প্রচেষ্টার ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়ে বেঁচেও আছেন তাঁর ইচ্ছায়। এত অপ্রত্যাশিত সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে তার নেতৃত্বে ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত একটি দেশে আঠার কোটি মানুষ নিরাপদে, নিশ্চিন্তে আছে তা-ও তারই ইচ্ছায়।
সব ষড়যন্ত্রের বিনাশ ঘটিয়ে তিনি নিরাপদে থেকে, দেশবাসীকে নিরাপদে রেখে তিনি যে আকাশছোঁয়া সাফল্যটাও অটুট রাখবেন, সেটাও মহান সৃষ্টিকর্তারই ইচ্ছায়।
ভালো থাকুন প্রিয় শেখ হাসিনা, ভালো থাকুক বাংলাদেশ।◉
লেখক: সাবেক ছাত্রলীগ নেতা



