
যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের পক্ষে ৫০ হাজার সেনা ও রণতরী পাঠাবে
ইউক্রেনে এই মুহূর্তে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো মুহূর্তে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া। এমন পরিস্থিতিতে আরও অস্ত্র পাঠানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন করে ৫০ হাজার সেনার পাশাপাশি যুদ্ধজাহাজ ও জঙ্গিবিমানও মোতায়েন করা হবে। অস্ত্র সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোও। সোমবার জোটের এক বিবৃতিতে যুদ্ধজাহাজ ও বিমান মোতায়েনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এদিকে ইউক্রেন থেকে মার্কিন নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী কিয়েভে নিজেদের দূতাবাস কর্মী, তাদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কূটনীতিক প্রত্যাহার করতে শুরু করেছে যুক্তরাজ্যও। তবে এখনই কূটনীতিকদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সব কূটনৈতিক চেষ্টাই কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার হুমকিও কানে তুলছে না রাশিয়া। ইউক্রেন সীমান্তে গত কয়েক মাস ধরে লক্ষাধিক সেনা মোতায়েন করে রেখেছে মস্কো। সেই সঙ্গে শত শত ট্যাংক, আর্টিলারি ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রেখেছে। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহে ভূমধ্যসাগরে অন্তত ছয়টি যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়েছে যা আস্তে আস্তে ইউক্রেন উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মিত্র দেশ ইউক্রেনকে রুশ আগ্রাসন থেকে বাঁচাতে সামরিক অপশন নিয়ে আলোচনা শুরু করেন মার্কিন কর্তারা। ইতোমধ্যে মার্কিন অস্ত্রের দুটি চালান ইউক্রেনে এসে পৌঁছেছে। রোববার রাতেই মার্কিন অস্ত্রের সর্বশেষ চালান কিয়েভে এসে পৌঁছায়। এই চালানে প্রায় ২০ কোটি ডলারের অন্তত ৯০ টন অস্ত্র রয়েছে। এবার তৃতীয় চালান পাঠানোর পরিকল্পনা চলছে।
সোমবার নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি সপ্তাহে ক্যাম্প ডেভিডে সামরিক কর্তাদের সঙ্গে এক দীর্ঘ বৈঠকে বসেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। এতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন ও জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলি। বৈঠকে প্রেসিডেন্টের সামনে নতুন পরিকল্পনা তুলে ধরেন পেন্টাগন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা মতে, ইউক্রেন, লিথুয়ানিয়া, এস্তোনিয়া ও লাটভিয়াসহ রাশিয়ার সীমান্তবর্তী পূর্ব-ইউরোপের ন্যাটো সদস্য দেশগুলোতে শিগগিরই এক থেকে পাঁচ হাজার সেনা পাঠানো হবে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি তথা রাশিয়া হামলা চালালে সেনা সংখ্যা ৫০ হাজার পর্যন্ত বাড়ানো হবে। সেই সঙ্গে যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান পাঠানো হবে। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী কোনো মার্কিন সেনা সরাসরি ইউক্রেনে মোতায়েন করা হবে না।
ইউক্রেনের সহায়তায় দেশটিতে ইতোমধ্যে সামরিক সাহায্য পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোও। সোমবার সামরিক জোটের মহাসচিব জেন্স স্টলচেনবার্গ এক বিবৃতিতে বলেন, পূর্ব-ইউরোপের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি মিত্রদের রক্ষায় যা কিছু প্রয়োজন তার সবকিছুই করবে ন্যাটো।’ ‘ইউক্রেনে রুশ অভিযান আসন্ন’-চলতি সপ্তাহে পেন্টাগনের এমন হুঁশিয়ারির পর ইউক্রেন থেকে মার্কিন কূটনীতিক ও নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি বার্তায় দূতাবাসে প্রয়োজনীয় নয় এমন কর্মীদের পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকদেরও জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফেরার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। বার্তায় আরও বলা হয়, ‘এই মুহূর্তে ইউক্রেনে ভ্রমণ করা যাবে না এবং চলমান উত্তেজনার কারণে সেখানে মার্কিন নাগরিকদের হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা আছে।’ একই পথ ধরেছে যুক্তরাজ্যও। এ প্রসঙ্গের এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, ইউক্রেনে হামলা চালালে একের পর এক নিষেধাজ্ঞায় আরেক চেচনিয়ায় পরিণত হবে রাশিয়া। ইইউ কর্মকর্তা সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই মুহূর্তে কিয়েভ থেকে কূটনীতিকদের সরানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। এদিকে ব্রিটিশ বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া যদি সত্যিই ইউক্রেনে হামলা চালায় তাহলে যুক্তরাজ্যে চলমান তেল-গ্যাসের দামও রেকর্ড পরিমাণ বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ইইউ কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হামলার সঙ্গে সঙ্গে মস্কোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সে ক্ষেত্রে পালটা ব্যবস্থা হিসাবে তেলের সরবরাহ বন্ধ কিংবা পাইকারি মূল্য বাড়িয়ে দিতে পারে রাশিয়া। ইউরোপের প্রয়োজনীয় জ্বালানি গ্যাসের ৩৫ শতাংশই আসে রাশিয়া থেকে।



