ভারতযুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের ‘চুক্তিভিত্তিক দাস’ মন্তব্যের প্রতিবাদ জানালো ভারত

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এইচ-১বি ভিসা-ধারীদের ‘চুক্তিভিত্তিক দাস’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ভারতে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। অনেকেই এরপর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মাখামাখি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। ভারত এই মন্তব্যকে ‘অত্যন্ত আপত্তিকর’ বলে জানিয়েছে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অভিবাসীদের বিপুল অবদানের কথা তুলে ধরেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, বেদনাদায়ক ঐতিহাসিক ও ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকারের ইঙ্গিতবাহী পরিভাষা ব্যবহার করা অত্যন্ত আপত্তিকর।
এইচ-১বি (ঐ-১ই) ভিসা-ধারীদের ‘চুক্তিভিত্তিক দাস’ হিসেবে অভিহিত করায় শুক্রবার ভারত যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের তীব্র নিন্দা করেছে। ভারত তার এই মন্তব্যকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘অত্যন্ত আপত্তিকর’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

ওয়াশিংটন এমন একটি কর্মসূচির আওতায় আবেদন গ্রহণ স্থগিত করেছে, যার মাধ্যমে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বসবাসের অনুমতির (পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি) জন্য স্পন্সর করতে পারত।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জোর দিয়ে বলেছে যে, তারা মার্কিন অর্থনীতি ও উদ্ভাবনী ব্যবস্থায় অত্যন্ত দক্ষ অবদানকারী।
মন্ত্রণালয় আরও সতর্ক করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো উভয় দেশের পারস্পরিক অর্থনৈতিক স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ করছে।

আইটি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আমেরিকান কর্মীদের বদলে বিদেশি কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে ব্যবস্থাকে কাজে লাগানোর অভিযোগ তুলেছেন জেডি ভ্যান্স। মাইক্রোসফট, ইনফোসিস, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, উইপ্রো এবং এইচসিএল-সহ আটটি বৃহৎ আইটি প্রতিষ্ঠানের জন্য মার্কিন শ্রম বিভাগের ‘পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম’ (যা ‘পার্ম’ নামে পরিচিত) স্থগিত করার বিষয়টিকে সমর্থন জানান ভ্যান্স।

তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই কোম্পানিগুলোর উচিত “বিদেশি চুক্তিবদ্ধ দাস” দিয়ে আমেরিকান কর্মীদের প্রতিস্থাপন না করে বরং “দক্ষ আমেরিকান কর্মীদের” নিয়োগ দেয়া।
এর জবাবে ভারত আমেরিকার নিজস্ব ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে বলেছে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অভিবাসীরা তাদের শ্রম, উদ্যম ও উদ্ভাবনী শক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সমৃদ্ধি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছেন।

ভারতের মতে, মেধা বা দক্ষ জনশক্তির এই চলাচল উভয় অর্থনীতির জন্যই লাভজনক, এটি কেবল বিদেশে সুযোগ-সন্ধানী ভারতীয় কর্মীদের জন্যই সুবিধাজনক নয়।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি যেমন ভারতীয়দের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্যও অত্যাধুনিক মেধা, উদ্ভাবন, গবেষণা, উৎপাদনশীলতা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে সমানভাবে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি এটি যুক্তরাষ্ট্রে শেয়ারহোল্ডারদের সম্পদ বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।

মন্ত্রণালয় আরও যোগ করেছে, তাই এটি উভয় দেশের জন্যই অত্যন্ত পারস্পরিক সুবিধাজনক একটি ক্ষেত্র। সেই সঙ্গে ভারত উল্লেখ করেছে যে, ওয়াশিংটনের ঘোষিত পদক্ষেপগুলো তাদের যৌথ লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক নয়।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension