
রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলা, হুতিদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের অঙ্গীকার সৌদি আরবের
নিহত অন্তত ১২, আহত ৩০০-এর বেশি; হুতিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা
হোসনেআরা চৌধুরী:
রিয়াদ, সৌদি আরব: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর হুতিদের বিরুদ্ধে কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে সৌদি সরকার। ১০ অক্টোবরের হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ হামলার জন্য ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে। বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে রিয়াদ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে সৌদি নাগরিকদের পাশাপাশি বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের নাগরিকও রয়েছেন। আহতদের অনেককে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে হতাহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
নিরাপত্তা উদ্বেগে বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত
হামলার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনার জন্য বিমানবন্দরের কার্যক্রমে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এতে যাত্রী চলাচল ও আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার খবর পাওয়া গেছে। সৌদি বিমানবন্দর ব্যবহার না করার বিষয়ে হুতিদের হুঁশিয়ারিও আঞ্চলিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
১১ অক্টোবর বিমানবন্দরে আরেকটি হামলায় একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন বলে পরবর্তী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ধারাবাহিক এসব হামলা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে কি না, তা বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে আলোচনার পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং নিহতদের মধ্যে একজন মার্কিন নাগরিক থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নিলে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে। এতে সৌদি আরব, ইয়েমেন ও ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি নতুন করে সামরিক সংঘর্ষের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
আন্তর্জাতিক মহলের নিন্দা
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইয়েমেনবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূতও পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে শান্তি প্রতিষ্ঠার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি নিরাপত্তায় শঙ্কা
সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বিমানবন্দর, সামরিক স্থাপনা, তেল অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নতুন করে হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বিশেষ করে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। একইভাবে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
সংঘাত কোন দিকে যাচ্ছে?
সৌদি আরবের পাল্টা পদক্ষেপের ঘোষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অংশগ্রহণের বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। একদিকে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চাপ, অন্যদিকে বৃহত্তর যুদ্ধ এড়ানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা—এই দুইয়ের মধ্যে কঠিন ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে।
পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল। হতাহতের সংখ্যা, হামলার প্রকৃত বিবরণ এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যাবে।
সম্পাদনা-সংক্রান্ত নোট: প্রকাশের আগে হতাহতের সংখ্যা, বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিচয় এবং দ্বিতীয় হামলার তথ্য নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্রের সঙ্গে পুনরায় যাচাই করে নেওয়া উচিত।



