
পাকিস্তান, ধর্মান্ধতা যখন রূপ নেয় চরমপন্থায়
আজিম খান
পাকিস্তান সুপ্রীম কোর্ট আছিয়া বিবি নামক এক নারীকে ধর্ম অবমাননার মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার পর থেকে পাকিস্তান উত্তাল। বড় বড় শহরের মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ, স্কুল কলেজ বন্ধ। পাকিস্তান হেফাজতে ইসলামি শাখার মোল্লারা দাবি তুলেছে আছিয়া বিবিকে ফাঁসি দিতেই হবে। মোল্লারা বারবার বিচারপতিদের নিরাপত্তা রক্ষীদের আহবান করছে তাদের খুন করতে। এমনকি তারা বাবুর্চিদের প্রতিও আহবান জানিয়েছেন খাদ্যে বিষ মিশিয়ে যাতে তাদের হত্যা করা হয়। এই কর্মের বিনিময়ে পরকালে তারা বেহেস্তে যাবে সেই প্রতিশ্রুতিও দেয়া হয়েছে।
তুমুল বিক্ষোভ আর অরাজকতার মুখে ইমরান খান এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান কামার বাজওয়া মোল্লাদের সুপ্রীম কোর্টের রায় মেনে নেয়ার আহবান জানালে শুরু হয় আসল খেলা। মোল্লারা সরাসরি জানিয়ে দেয় তারা শুধু আল্লাহ এবং নবী প্রদত্ত ইসলামি আইন মানে। মানুষের তৈরি কোন আইন তারা মানবে না। খেলা এখানেই শেষ নয়। ইমরান খানকে ইতিমধ্যে ‘ইহুদীদের দালাল’ বলে শহরে শহরে স্লোগান চলছে। পাকিস্তানের সবচাইতে ক্ষমতাধর ব্যাক্তি পাকিস্তান সেনাপ্রধানকে ‘কাফির এবং মুরতাদ’ ঘোষনা দিয়ে মিছিল, বিক্ষোভ, অগ্নি সংযোগ চলছে।

এই সেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী যারা এইসব মৌলবাদীদের পেলেপুষে মাদ্রাসায় মাদ্রাসায় তৈরি করেছে। আজ তারাই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জেনারেলদের ‘কাফের এবং মুরতাদ’ বলে মিছিল করছে। দানব তৈরি করে তা হয়তো সাময়িক নিয়ন্ত্রন করা যায় কিন্তু ইংরেজ সাহিত্যিক মেরি শেলির ‘ফ্রাংকেনস্টাইন’ উপন্যাসের মতই পরিনতি হয়। কোন দানবকেই আসলে কেউ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রন করতে পারে না। দানব যথেষ্ট শক্তিশালি হবার পরে সর্বপ্রথম তার মনিবকেই খুন করে। পাকিস্তানে ঠিক তাই হচ্ছে এই মুহুর্তে। কথা হচ্ছে, বাংলাদেশে যারা হেফাজত ইসলামি, চরমোনাই পীর নামক পাকিস্তানের দানবদের আদলে অনেকগুলো দানব তৈরি করেছেন তারা কি কিছু শিখবেন এই ঘটনা থেকে?



