
ধরো, ট্রেনে করে কোথাও যাচ্ছিলে
বছর উনিশ পর রেলগাড়ীর কামরায় হঠাৎ দেখা
চিনতে পারবে এই আমার বিবর্তিত অবয়ব, অক্লান্ত অবুঝ মন?
নিরন্তর ক্ষয়ে যাওয়া বিচলিত সুখে, তাকিয়ে থাকবে বিহ্বল চোখে?
নাকি ইগোকে ইগনোর করতে শেখোনি বলে
মুখ ফুরিয়ে প্রস্থান করবে দ্রুতলয়ে?
ঐ বরাবর যেমনটা করতে আর কি!
তারপর, অভিমানের বাঁধ ভেঙে গেলে অঝোরে কপোল বেয়ে খসে পড়বে একটা একটা করে জমানো কালো মেঘ,
মনের নৃত্যকলায় যে সংলাপময় শব্দ লিখি প্রতিদিন তার আভিধানিক অর্থ ‘বেঁচে থাকা’
মাঝে মাঝে প্রস্থানেই নিহিত থাকে চিরন্তন সুখ
কিছু মৃত্যু বাঁচিয়ে দেয় বারবার মরে যাওয়া থেকে।
অপেক্ষা অবহেলা আর উপেক্ষা এই তিনটি শব্দ
আজকাল বেশ ভাবায়
এই চোখের কোণে লুকিয়ে রেখে এক সমুদ্র ঢেউ
ঠোঁটে বজায় রাখি স্মিতহাসি!
ওটা আসলে কান্না চেপে রাখার অবিরাম চেষ্টা
অথচ, তুমি বুঝতেই পারনি!
ভালোবাসা মানে তো শর্তহীন আবেগ আর অনুপস্থিতিতে
নিরন্তর আর্তনাদ!
যদি জিজ্ঞেস করি তুমি সে আর্তনাদ শুনেছিলে কিনা
তবে কী জবাব দেবে?
মুখোমুখি দাঁড়িয়ে উনিশ বছর পর পারবে সাজিয়ে গুছিয়ে আবার মিথ্যে বলতে?
ভালোবাসলে মনের আর্তনাদের সুর চিনতে হয়!
অভিধান থেকে জেনে নিও, উপেক্ষা, অবহেলা, অবজ্ঞার অর্থ কী?



