
বিপুল চন্দ্র রায়
অনন্ত ঐ নক্ষত্রদের মহাব্যোমের দেশে,
বড্ড একা দাঁড়িয়ে সে যে নীরবতার বেশে।
অন্ধভাবে সবাই যখন ভাসায় জীবনস্রোত,
থমকে দাঁড়ায় একাকী সে মেনে নিয়তি-পথ।
সবাই ভাবে দলছুট সে লক্ষ্যহারা পাখি,
আসলে সে মরীচিকা, দিচ্ছে না তো ফাঁকি।
বিশ্বমাঝে একলা সে তো স্বতন্ত্র এক বিন্দু,
যার বুকেতে একাই জাগে বিশাল এক সিন্ধু।
সে একা আজ ভীষণ একা মহাকালের তলে,
মনস্তত্ত্বের জটিল মায়ায় বন্দি চিরকালে।
বুঝতে পারে মর্ত্যভূমির রঙ্গমঞ্চ-মায়া,
চেনামুখের ভিড়েও সে যে একলা এক ছায়া।
অগণিত ঐ চেনামুখের কোলাহলের ভিড়ে,
তার সত্তা ডুবে থাকে আপন নিভৃত নীড়ে।
তবুও সে বিলীন হয় না চেনা কলরবে,
সে তো কেবল মৌন সম্রাট নিজের মহোৎসবে।
নিঃসঙ্গতার গভীর টানে স্পন্দিত হয় প্রাণ,
সেখানেই তো বাজতে থাকে নিজস্ব সুর-গান।
মহাকালের বুক চিরে সে জ্বলবে স্বমহিমায়,
অনন্তেরই মৌন সম্রাট সমাপ্তিহীন কবিতায়।



