যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে ‘বৃহৎ হামলার’ সিদ্ধান্ত খুব কাছাকাছি: ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে এর আগে চালানো হামলার চেয়েও বড় পরিসরের একটি সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার খুব কাছাকাছি বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমি একটি ব্যাপক হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছি। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার খুব কাছাকাছি আছি। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।

তবে তিনি জানান, এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। সম্ভাব্য অভিযানে ইসরায়েলের ভূমিকা সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, আমি বললে ইসরায়েল দুই মিনিটের মধ্যেই যোগ দেবে। তবে আমাদের কারও প্রয়োজন নেই।

ট্রাম্পের এ মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই যুক্তরাষ্ট্র টানা ১৩তম রাতের মতো ইরানে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিমান হামলা চালায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, হরমুজ প্রণালির কেশম ও বন্দর আব্বাস, দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং রাজধানী তেহরানের আশপাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে সর্বশেষ হামলার পরিধি আগের হামলাগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বড় ছিল না।

এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম আবারও প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার অতিক্রম করে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়লে তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

এর আগে লোহিত সাগরে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ট্রাম্প ইরান ও হুথিদের বিরুদ্ধে ‘বড় ধরনের সামরিক শাস্তি’ দেওয়ার হুমকি দেন।

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে তিনি বলেন, অঞ্চলটি কল্পনার অতীত এক বিপর্যয়ের কিনারায় পৌঁছে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এক সংকট আরেক সংকটকে উসকে দিচ্ছে, এক উত্তেজনা আরেকটি সংঘাতের জন্ম দিচ্ছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে যুক্তরাজ্য ইরান থেকে সাময়িকভাবে তাদের কূটনৈতিক কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। জার্মানি লোহিত সাগর থেকে নিজেদের দুটি নৌযান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিলের বিষয়ে সতর্ক করেছে।

এদিকে ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা পেতে হলে দেশটিকে ইসরায়েলের সঙ্গে আব্রাহাম চুক্তির আওতায় সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে। যদিও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি ছাড়া এ ধরনের পদক্ষেপে দীর্ঘদিন ধরে অনাগ্রহ দেখিয়ে আসছে রিয়াদ।

অন্যদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৩ জুলাই ইরান ইয়েমেনে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সদস্য এবং সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। একই সময়ে হুথিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে অবরোধের ঘোষণা দেয়।

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিতে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় জাহাজ চলাচল ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এরই মধ্যে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হুথিরা যদি আবারও একই ধরনের হামলা চালায়, তাহলে তার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করা হবে এবং ইরান ও হুথি—উভয়ের বিরুদ্ধেই কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান দেশটির অভ্যন্তরেও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ একটি প্রস্তাব পাস করেছে, যেখানে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি কংগ্রেসের দ্বিতীয় সতর্কবার্তা।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension