
চলচ্চিত্র নির্মাতা কিম কি-দুকের মৃত্যু
বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা কিম কি-দুক মারা গেছেন। দ্য গার্ডিয়ানসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, শুক্রবার লাতভিয়ার একটি হাসপাতালে ৫৯ বছর বয়সে তিনি মারা যান। বেশ কিছুদিন ধরে করোনার লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন দক্ষিণ কোরিয় এই পরিচালক।
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন লায়ন আর বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে সিলভার বিয়ার পদ পেয়ে বিশ্ব চলচ্চিত্র অঙ্গনে দক্ষিণ কোরিয়াকে নতুন পরিচয় দেন এই কিংবদন্তী। শেষ দিনগুলোতে এস্তোনিয়াতে একটি সিনেমার প্রোজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছিলেন কিম কি-দুক। সেখান থেকে ব্যক্তিগত কাজে গত ২০ নভেম্বর লাটভিয়া যান কিম। বাড়ি কিনে সেখানেই স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার।
এরই মাঝে করোনার লক্ষণ দেখা দেয়ায় লাতভিয়ার রাজধানী রিগার একটি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। শারীরিক জটিলতার কারণে দ্রুত তার অবস্থার অবনতি ঘটে। তবে ইউরোপিয় ইউনিয়নের স্বাস্থ্যনীতির কড়াকড়ির কারণে তাঁর স্বাস্থ্যগত জটিলতার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয় নি।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ কোরিয় সিনেমার প্রতিনিধিত্ব করছিলেন কিম। কান, ভেনিস ও বার্লিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার লাভ করে তার নির্মিত সিনেমা।
২০১১ সালে ‘আরিরাং’ ও ২০১২ সালে ‘পিয়েতা’ সিনেমার জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আন্তর্জাতিক পুরস্কার পান কিম কি-দুক। স্বতন্ত্র কাহিনী, গল্প বলার ধরণ আর দক্ষ পরিচালনায় কোরিয় তথা এশিয়ার চলচ্চিত্রকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যান এই গুণী পরিচালক।
তাঁর জনপ্রিয় ছবি থ্রি আয়রন, ক্রোকোডাইল, টাইম, ড্রিম অথবা ব্রেথ ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পায়। এছাড়াও বিউটিফুল, মেড ইন চায়না, দ্য নেট, স্টপ আর ‘স্প্রিং, সামার, ফল, উইনটার অ্যান্ড স্প্রিং’ এর মতো ছবিগুলোও আইএমডিবির রেটিংয়েও শীর্ষ স্থান দখল করে আছে।
কিম কি-দুকের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে চলচ্চিত্র অঙ্গনসহ আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বরা। তার মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করে আলাদা বিবৃতিতে শোক জানায় দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।❐



