
ডাকসু নির্বাচন: আঁতুড়ঘরে আলো আসুক
ডাকসু ভবন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষার প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান। আর মাত্র সাড়ে তিন বছর পরেই এ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ উদযাপন করবে। উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের প্রথম গন্তব্য এই বিশ্ববিদ্যালয়। আমাদের নেতৃত্ব গড়ে ওঠে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই-শুধু রাজনীতি নয়, শিক্ষা, ব্যবসায়, চাকরি, গবেষণা, শিল্প-সাহিত্য-দর্শন সব ক্ষেত্রেই।
বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রমে ছাত্র প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য রয়েছে ছাত্র সংসদ বা ‘ডাকসু’। ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তুরের গণঅভ্যুত্থান, স্বাধীনতা আন্দোলন এমনকি স্বাধীনতা উত্তর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও এই ছাত্র সংসদ জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছে। এক সময়ের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও ছাত্র নেতৃত্বের যুগপথ আন্দোলনের ফলেই বাংলাদেশ আজ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে, স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসুর আলো নিভে গেলো। যেনো স্বৈরাচারের পতনের মধ্য দিয়ে ডাকসুর প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে- ছাত্র নেতৃত্ব আর দরকার নেই। ১৯৯০ সালের পর গত ২৮ বছর ডাকসু আর আলোর মুখ দেখেনি। ছাত্রদের ভোটাধিকার আজ জাদুঘরে (ডাকসু সংগ্রহশালায়)।
১৯২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৩ বছর পরেই যাত্রা শুরু করে ডাকসু। প্রথমে পরোক্ষ ভোটাভুটি পরে প্রত্যক্ষ ভোটেই প্রতিনিধি নির্বাচন হতো। প্রত্যক্ষ ভোটে প্রথম ডাকসু নির্বাচন হয় ১৯৫৩ সালে। এভাবে ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি আমল পার করলো ডাকসু। ডাকসুর প্রথম ভিপি হন এসএ বারি ও সাধারণ সম্পাদক জুলমত আলী খান।
আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনে ডাকসু, স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ, ছাত্রলীগসহ অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের অবদানের কথা আমরা ভুলবো কী করে? তাদের সেই তুখোড়, মেধাবী ও দূরদর্শী নেতৃত্বের ফলেই স্বাধীনতা আন্দোলন বেগবান হয়। স্বাধীন বাংলার পতাকাটি প্রথম উত্তোলন করেন ডাকসুর ভিপি আ স ম আবদুর রব। তখন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আবদুল কুদ্দুস মাখন। এরকম আরো অসংখ্য নেতৃত্ব রয়েছে যাদের নাম বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাস ও রাজনীতির সাথে ওতোপ্রতোভাবে মিশে আছে।
স্বাধীনতার পর প্রথম ডাকসুর ভিপি হন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব জামান। এছাড়া স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে



