
ড. মোমেনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করায় নিউইয়র্কে আনন্দ-উল্লাস
রূপসী বাংলা প্রবাস ডেস্ক: নতুন মন্ত্রিসভায় ‘প্রবাস বন্ধু ও মিডিয়া বান্ধব’ হিসেবে পরিচিত ড. এ কে এ মোমেনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ করার সংবাদে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বস্তরের প্রবাসীই সন্তুষ্ট। সংবাদটি গণমাধ্যমে আসার পরই নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে মিষ্টি বিতরণ করেছে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখা। পরস্পরের মধ্যে টেলিফোনে গভীর কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। অনেকে ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসেও একই অভিব্যক্তির প্রকাশ ঘটিয়েছেন। ৩৫ বছরের অধিক সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর বছর তিনের আগে শেখ হাসিনার আহবানে স্থায়ীভাবে সিলেটে ফিরেছেন এমিরিটাস অধ্যাপক ড. এ কে এ মোমেন।
সদ্য-স্বাধীণ বাংলাদেশের প্রথম ব্যাচে উন্নয়ন-অর্থনীতিতে এমবিএ করার পর সরকারী চাকরিতে যোগদান করেছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যার পর বেশীদিন চাকরিতে টিকতে পারেননি। সামরিক-স্বৈর শাসকের সমালোচনার শিকার হয়ে এক পর্যায়ে তাকে দেশত্যাগে বাধ্য হন ড. মোমেন। যুক্তরাষ্ট্রে আসার পরই বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৭৯ সালে এমবিএ করেন। এরপর বস্টনেরই নর্থ ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টরেট করেছেন। শিক্ষকতা করেছেন হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির কেনেডি স্কুল অব গভর্ণমেন্টসহ কয়েকটি ইউনিভার্সিটিতে। সর্বশেষ ২০০৯ সালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে যোগদানের আগ পর্যন্ত অর্থনীতি ও ব্যবসা প্রশাসনে অধ্যাপনা করেছেন বস্টনে ফ্রামিংহাম স্টেট কলেজে। এরইমাঝে ১৯৯৮ সালে ড. মোমেনকে সউদি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। সেখানে কর্মরত অবস্থায়ই ২০০৩ সালে রিয়াদে বোমা বর্ষিত হওয়ায় তিনি ফিরেছেন বস্টনে। জাতিসংঘে দায়িত্ব পালনকালে শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে ড. মোমেন বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক অসাধারণ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেন। ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। এ দায়িত্ব পালনকালেই ২০১৫ সালের অক্টোবরে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আহবানে বাংলাদেশে ফেরেন ড. মোমেন। গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সিলেট-১ আসন থেকে নৌকা প্রতিকে সংসদ সদস্য হবার পরই তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দিলেন শেখ হাসিনা।
৬ জানুয়ারি রোববার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার আনন্দ-সমাবেশে এ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, ‘জাতিরপিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডেন্ট ড. এ কে এ মোমেন যথাযথ ভ’মিকা পালনে সক্ষম হবেন। সে প্রত্যাশায় গুরুত্বপূর্ণ এ দায়িত্ব প্রদানের জন্যে আমরা কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। নতুন মন্ত্রিপরিষদে ড. মোমেনের এ মর্যাদাকে আমরা প্রতিটি প্রবাসীর প্রতি বঙ্গবন্ধু কন্যার দরদিপূর্ণ মনোভাব বলেই বিবেচনা করছি।’
তাৎক্ষণিক এ আনন্দ-সমাবেশে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক সংগঠক এবং ব্যবসায়ীরাও। সকলেই প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সমস্বরে। বাংলাদেশে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে প্রবাসীরাও ঐক্যবদ্ধ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।এনআরবি নিউজ





