
বিবিক্ত ব্রহ্মাণ্ড আজন্ম অনাথ; বাঁচে
তবু নক্ষত্রের অপার আশ্বাসে; সময়ের সোজা
মুখ মাঝে মাঝে বেঁকে যায় নৃত্যরত নারীর মতন; বোঝা
বয়ে ক্লান্ত আজ মহাকাল।
বিভিন্ন ব্যাসের ভিন্ন অসম সকাল
চেতনার সাথে করে লুকোচুরি; জানি,
এইসব হেঁয়ালির সুযোগ সন্ধানী
নিরুত্তর ধাঁধা
যেন নর্তকীর পায়ে বাঁধা
রাত দুপুরের নগ্ন নূপুরের নিগুঢ় নিক্কন।
কেন তবে পৃথিবীতে প্রেম ও পাপের
ধ্রুপদী দ্বৈরথ? পৃথিবী কি সকল অভিশাপের
আঁস্তাকুড়? মহাজাগতিক
সমস্ত জঞ্জালে পূর্ণ এক নরকের নিজস্ব প্রতীক?
তথাপি মানুষ আহা, দ্বৈবের সন্ধানে
অতৃপ্ত আত্মায় বয়ে আনে
জোছনার মতো অপরূপ ভালোবাসা।
যদিও বিজ্ঞান বলে, অনেক হতাশা
বুকে নিয়ে একদিন মরে যাবে এই বসুন্ধরা।
কে এমন সাজায়েছে সুনিপুণ বসন্ত বাগান!
নেই সমাধান,
কেন হায়, মৃত্যুর মড়কে
সভ্যতার সুমহান সোনালী সড়কে
এখনও রাত জাগে অগণিত কবন্ধ কঙ্কাল।
গন্তব্যহীন গতির অন্ধ মহাকাল
একদিন বুঝে নেবে আপন মৃত্যুর পরোয়ানা;
শেষ হবে সব সোনা-দানা
সময়ের সঞ্চিত ভাণ্ডারে অজানার অন্ধকারে।
হয়তো খেলছে কেউ পৃথিবীর শিশুর মতন
নিরালায় বসে। ব্যর্থতার বিবর্তন
সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর হয়েছে হৃদয়ে; হত্যা আর আত্মহত্যা
শিখেছে মানুষ; বিদগ্ধ বুদ্ধির সারবত্তা
আমাদের মনে জ্বেলেছে কাঙ্খিত আলো;
চৈতন্যের চিরন্তন শিখা চমকালো
আত্মার গহ্বরে তাই।
প্রশ্নের প্রবল জোয়ারে কোথাও ঠাঁই
নেই; দার্শনিক দূরদৃষ্টি সৃষ্টি করে অপার হতাশা।
অরণ্যের যাযাবর জীবনের দিনে
পাথরের অস্ত্র হাতে করেছি শিকার; কালের কফিনে
জমে নাম গোত্রহীনা লাশ; হিসাবের হালখাতা
হারায়েছে ধূসর ধুলায়; সময়ের বহু পাতা
বিস্মৃত এখন; কোনো এক শাশ্বতীর সাথে
মেঘমুক্ত এক মধ্য রাতে
দেখেছে প্রেমিক পৃথিবীর প্রথম পূর্ণিমা।
অবরুদ্ধ আবেগের ভেঙেছিল সীমা
সাক্ষী ছিল মৃদু হেসে নতোমুখি নিখিল নীলিমা!



