
আন্তর্জাতিকপ্রধান খবর
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যায় ইসরায়েলের ভূমিকা
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর চালানো গণহত্যা ও দমন অভিযানে ইসরায়েলের ভূমিকা রয়েছে বলে তথ্য প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন ভিত্তিক বার্তা পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট আল-মনিটর।
গেল ৭ জানুয়ারি সংস্থাটির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ৬ জানুয়ারি সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে ইসরায়েল মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কাছে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রেখে রোহিঙ্গা মুসলমান হত্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, মিয়ানমার সেনাবাহিনী যে ইসরাইলসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে সংগ্রহ করা অস্ত্র রোহিঙ্গা মুসলমান হত্যায় ব্যবহার করেছে তার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও দেশটির উগ্র বৌদ্ধরা রাখাইন প্রদেশের রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাটসহ ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধ চালায়। এই দমন অভিযানে অন্তত ৬ হাজারেরও বেশি নিরীহ মুসলমান নিহত ও অপর ৮ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা আহত হন। এ ছাড়া, সহায়-সম্বল হারিয়ে প্রাণ ও সম্ভ্রম বাঁচাতে শরণার্থীতে পরিণত হয়েছে গোটা সম্প্রদায়।
এ পরিস্থিততে পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ ও তার সরকারের প্রশংসা করে বলা হয় যে, দেশটি প্রায় ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলমানদের এই সংকটাপন্ন সময়ে আশ্রয় দিয়ে মানবতার উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ, যা বিশ্ব দরবারে প্রশংসা কুড়িয়েছে। অন্যদিকে মিয়ানমারেরে কাছে চলমান সাম্প্রদায়িক নিধনের সময় সমরাস্ত্র সরবরাহ করে এই গণহত্যাকে অনুপ্রাণিত করার ক্ষেত্রে ইসরাইলের সমালোচনা করে।
জাতিসংঘ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত শুদ্ধি অভিযান’ চালানোর জন্য দেশটির সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে। এছাড়া, এই সেনাবাহিনীকে বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট সেনাবাহিনী হিসেবেও উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ।



