
ইমন হোসেন মিলন
যুদ্ধে উন্মাদ হে উন্মত্ত ধরিত্রী,
ধ্বংসযজ্ঞের এই লেলিহান দাবানল থামাও,
যবনিকা টানো মৃত্যু মুখর রক্তাক্ত ট্রাজেডির!
সমস্ত মারণাস্ত্র ছুঁড়ে ফেলে,
চলো আজ দু’হাতে উড়াই শান্তির শুভ্র পায়রা।
বারুদের গন্ধ নয়,
শ্বাসরুদ্ধ ধরণীতে আবারো ছড়াই নির্বিষ অক্সিজেন!
সংঘাত মুখর হে অন্ধ ধরিত্রী,
আরেকবার চেয়ে দেখো,
হত্যাযজ্ঞের এই উৎসবে,ঝাঁকে ঝাঁকে যারা লুটিয়ে পড়ছে,
পাখি নয়, ওরা মানুষ, ওরা মানুষ!
প্রজাপতির মতো যাদের রঙিন হওয়ার কথা ছিল,
সেই বর্ণিল শিশুগুলো আজ,
মরে যাওয়া বৃক্ষের মতো প্রাণহীন;
যেন আতঙ্কের অগ্নিতে ভস্ম প্রভাতের সুবাসিত ফুল!
হে রক্তপিপাসু ধরিত্রী, রক্তবৃষ্টি নয়,
পরাধীন ভূমিতে ঝরাও মুক্তির বীজ;
অন্তরীক্ষে নিষিদ্ধ হোক,
চন্দ্র,সূর্য,নক্ষত্র ছাড়া আর সব ক্ষেপণাস্ত্র;
সমুদ্রের রণতরীগুলো বিবর্তনে ভাসুক,
শান্তির উৎসবে হোক সর্বজনীন প্রমোদ তরী;
বিধ্বংসী ট্রাঙ্ক নয়,
ভূমিতে বিচরণ করুক কেবল মানুষ,স্বাধীন মানুষ!
হে বিধ্বস্ত ধরিত্রী,
শস্যের মাঠে আর না জ্বলুক বর্বর অনল;
হসপিটাল আর বিদ্যালয়গুলোতে,
আর বিস্ফোরিত না হোক বিধ্বংসী বোমা।
পৃথিবীর প্রতিটি নগরে, প্রতিটি পল্লিতে, প্রতিটি গৃহে,
ফিরে আসুক আলো, শান্তির শাশ্বত উৎসব।
ফুলের মতো ফুটে উঠুক স্বাধীনতা,
আজন্ম প্রিয় স্বাধীনতা!



