
৪০ ন্যাচারালাইজড আমেরিকানের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগে DOJ
অভিবাসন জালিয়াতি, মিথ্যা পরিচয় ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের অভিযোগ—ট্রাম্প প্রশাসনের সময় একসঙ্গে সর্বোচ্চ সংখ্যক ডিন্যাচারালাইজেশন মামলা
শাহ্ জে. চৌধুরী :
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (DOJ) ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া ৪০ জন আমেরিকানের নাগরিকত্ব বাতিলের লক্ষ্যে ফেডারেল আদালতে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের অভিযোগ, এসব ব্যক্তির কেউ নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন, কেউ মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার করেছেন, আবার কারও বিরুদ্ধে অভিবাসন জালিয়াতি ও গুরুতর অপরাধের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে।
DOJ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২১ আগস্ট থেকে ২ অক্টোবরের মধ্যে দায়ের করা এসব মামলা ট্রাম্প প্রশাসনের সময় একক সময়সীমায় সবচেয়ে বড় ডিন্যাচারালাইজেশন উদ্যোগ। অভিযোগগুলোর মধ্যে বিদেশি সরকারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করা, গুরুতর সহিংস অপরাধ, যৌন অপরাধ, ভুয়া বিয়ে, পরিচয় জালিয়াতি এবং নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের মতো বিষয় রয়েছে।
তবে নাগরিকত্ব এখনো বাতিল হয়নি
এই খবরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—DOJ মামলা করেছে মানেই ওই ৪০ ব্যক্তি ইতোমধ্যে মার্কিন নাগরিকত্ব হারিয়েছেন, এমন নয়।
ডিন্যাচারালাইজেশন একটি আদালতনির্ভর আইনি প্রক্রিয়া। সরকারের অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হতে হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। DOJ-এর ঘোষণাতেও এসব মামলার অভিযোগকে চূড়ান্ত আদালতের রায় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।
নিউইয়র্কের অভিবাসী কমিউনিটিতে নতুন করে উদ্বেগ
DOJ-এর এই পদক্ষেপ নিউইয়র্কের বিশাল অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে নাগরিকত্ব অর্জনের সময় দেওয়া তথ্যের যথার্থতা এবং অতীতের অভিবাসন রেকর্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
বিশেষ করে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এই উদ্যোগকে বিদেশে জন্ম নেওয়া সব ন্যাচারালাইজড আমেরিকানের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বর্তমান মামলাগুলো নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হয়েছে।
DOJ বলছে, যেসব ক্ষেত্রে সরকার মনে করে নাগরিকত্ব প্রতারণা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্যের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে ডিন্যাচারালাইজেশনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগটি তাই প্রশাসনিক ঘোষণা নয়—এটি আদালতে চলমান একটি আইনি প্রক্রিয়া। আর প্রতিটি মামলায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে আদালতের রায়ের ওপর।



