প্রবাসযুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে ইমাম-মোয়াজ্জিনদের প্রবেশে কড়াকড়ি

নিউ ইয়র্ক সিটিতে মুসলমানদেরই পাঁচ শতাধিক মসজিদ রয়েছে। যার প্রায় দেড় শতাধিক পরিচালনা করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশ থেকে ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে আনতে গিয়ে মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে বাদানুবাদ ও মামলা মোকদ্দমা পর্যন্ত হয়ে থাকে। মসজিদে তালা ঝুলানোর ঘটনাও ঘটিয়েছেন প্রবাসীরা।

রূপসী বাংলা প্রতিবেদন: মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের যুক্তরাষ্ট্রে আসতে অনুমতি দেয়ার ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) এ ব্যাপারে তাদের সংশোধিত ম্যানুয়ালে ধর্মীয় কর্মীদের (রিলিজিয়াস ওয়ার্কার) ভিসা দানের বিষয়টির ওপর আরও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় কর্মী বা রিলিজিয়াস ওয়ার্কার হিসাবে নিয়োগ দেয়ার মতো সামর্থ্য সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় উপসনালয়গুলির আছে কিনা তা এখন থেকে খতিয়ে দেখবে ইউএসসিআইএস।

শুধু আবেদনের কাগজপত্র ও প্রত্যায়নপত্রের ওপর ভর করে বিদেশ থেকে ইমাম, অ্যাসিসট্যান্ট ইমাম, মোয়াজ্জিন, প্যাস্টর প্রভৃতি আনার বর্তমান প্রচলিত প্রক্রিয়া সংশোধন করে এই নতুন বিধান চালু করা হচ্ছে। এখন প্রয়োজেনে ইমিগ্রেশনের অফিসাররা আবেদন এপ্রুভালের আগে ও পরে সংশ্লিষ্ট উপসানালয় পরিদর্শন করবেন। তারা দেখবেন আদৌ পিটিশনকারী বা পিটিশনকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কর্মচারিদের বেতন প্রদানের মতো সঙ্গতি আছে কিনা। এমনকি এ দেশে আসার পরও ধর্মীয় কর্মীদের বেতন-ভাতা ঠিকমত দেয়া হচ্ছে কিনা তাও তারা মনিটর করবেন। তারা পরিদর্শন করবেন মসজিদ, মন্দির কিংবা চার্চ।

গত ৩০ আগস্ট ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) সংশোধিত ও বর্ধিত আকারে ইমিগ্রেশন পলিসি ম্যানুয়াল প্রকাশ করেছে। যার দ্বিতীয় ও তৃতীয় চ্যাপ্টারে রয়েছে স্পেশাল ইমিগ্র্যান্ট (পারমানেন্ট) ধর্মীয় কর্মী ও ননইমিগ্র্যান্ট ধর্মীয় কর্মীর বিষয়টি। যাতে এই দুই ক্যাটাগরিতে ধর্মীয় কর্মী আনতে ফাইলিং প্রোসেস, ভেরিফিকেশন অব এভিডেন্স ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাইট ইনস্পেকশনের কথা উল্লেখ রয়েছে।

স্পেশাল ইমিগ্র্যান্ট ও ননইমিগ্র্যান্ট রিলিজিয়াস ওর্য়াকার (আর ১) উভয়ের জন্যই ইউএসসিআইএস ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বেতন ভাতা প্রদানের সক্ষমতার বিষয়টি প্রাধান্য দিচ্ছে। তাদের কাছে রিপোর্ট রয়েছে, অনেক প্রতিষ্ঠান ধর্মীয় কর্মীদের ইমিগ্র্যান্ট হিসেবে আনার নামে প্রতারণার আশ্রয় নেয়। এই প্রক্রিয়ায় অনেক ভুয়া ব্যক্তিকেও আমেরিকায় নিয়ে আসার অভিয়োগ রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা ভুয়া ধর্মীয় কর্মীদের সংশ্লিষ্ট উপসানালয়ের ধারে-কাছেও পাওয়া যায় না।

ধর্মীয় কর্মীদের ইমিগ্র্যান্ট করে আনার ক্ষেত্রে ননপ্রোফিট রিলিজিয়াস অরগানাইজেশন হিসেবে রেজিস্ট্রেশন, এক্সজেমট ফ্রম ফেডারেল ট্যাক্স রিকোয়ারমেন্ট ও প্রতিষ্ঠানের ফিজিক্যাল উপস্থিতির কাগজপত্র অবশ্যই দাখিল করতে হবে। নিউ ইয়র্ক সিটিতে মুসলমানদেরই পাঁচ শতাধিক মসজিদ রয়েছে। যার প্রায় দেড় শতাধিক পরিচালনা করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশ থেকে ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে আনতে গিয়ে মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে বাদানুবাদ ও মামলা মোকদ্দমা পর্যন্ত হয়ে থাকে। মসজিদে তালা ঝুলানোর ঘটনাও ঘটিয়েছেন প্রবাসীরা।
বাংলাদেশ থেকে মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার ব্যাপারে অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন ল’ ইয়ারের পরামর্শ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension