
গবেষণায় উদ্ভাসিত রোহিঙ্গা নিধনের মর্মান্তিক ইতিহাস
ইতিহাস গবেষক জামাল উদ্দিনের লেখা গ্রন্থ
সাম্প্রতিক সময়ে পৈশাচিক হিংস্রতা ও পাশবিক নিষ্ঠুরতায় মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর যে অমানবিক নির্যাতন চলছে, তার তুলনা খুঁজে পাওয়া যাবে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধকালে হিটলারের জার্মানিতে।
হিটলার চেয়েছিল সমগ্র ইউরোপ থেকে ইহুদি সম্প্রদায়কে নিশ্চিহ্ন করতে। আর মিয়ানমার জান্তা চায় রোহিঙ্গাদেরকে মিয়ানমার থেকে নির্মূল করতে; উভয় ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য জাতিগত নিধন।
গত বছরের আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে যে অকল্পনীয় নিষ্ঠুরতা শুরু হয়, তাতে প্রায় ৭ লক্ষ শরণার্থী ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে চলে এসেছে। অতীতেও নিপীড়িত হয়ে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে।
ইতিহাস গবেষক জামাল উদ্দিন দাবি করেছেন, মিয়ানমারে জাতিগত নিধন অনেক আগে থেকেই চলছে। রোহিঙ্গারা সেদেশে বহিরাগত নয়, বরং মিয়ানমারেরই বাসিন্দা। তিনি দেখিয়েছেন, রাখাইন (আগে যার নাম ছিল আরাকান) রাজ্যে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের অবস্থান ত্রয়োদশ/চতুর্দশ শতাব্দী থেকেই। তাদের একটা স্বাধীন রাজ্য ছিল যা আরাকান বা রোসং/রোহং নামে পরিচিত ছিল। ভূ-নৈকট্যের কারণে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের সঙ্গে একটা নিবিড় সংযোগ তাদের সবসময় ছিল; সাহিত্য-সংস্কৃতির একটি ঈর্ষণীয় ঐতিহ্যও গড়ে উঠেছিল সেখানে। মহাকবি আলাওল, মালিক জায়সী ও দৌলত উজির বাহরাম খান প্রমুখেরা যার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
‘লুণ্ঠিত আরাকানে রোহিঙ্গা জাতির আর্তনাদ’ শীর্ষক বিপুলায়তন গবেষণাগ্রন্থে বলা হয়েছে, ১৯৬২ সালে বার্মার এক আইনে রোহিঙ্গাদেরকে তাদের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা হয়। তারা সকল সভ্য নাগরিক অধিকার তথা মৌলিক মানবিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়। তখন থেকেই তাদের দুর্ভাগ্য ও নির্যাতনের শুরু। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গমস্থলে সমুদ্রতীরবর্তী হাজার বছরের প্রাচীন জনপদ আরাকান। ঐতিহাসিকভাবে রাজ্যটি ছিল বরাবরই স্বাধীন ও অতিশয় সমৃদ্ধিশালী। ম্রোহং বা রোসাঙ্গ শহরকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল এই রাজ্যের রাজধানী। চট্টগ্রাম, পেগু ও আরাকান এই তিন জনপদের মধ্যেই আবর্তিত হয়েছে এই রাজ্যের পরিধি। খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতক থেকেই ইয়েমেনীয় ও ব্যাবিলনীয় অঞ্চলের আরবগণ (অমুসলিম আমলের) সমুদ্রবিদ্যায় পারদর্শিতার কারণে চীনা ও ভারতীয় অঞ্চলের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্যের একচেটিয়া অধিকারী ছিল।



