

শাহ্ জে. চৌধুরী
নিউ ইয়র্ক
নিউ ইয়র্ক সিটির বুকে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হলো এক হৃদয়স্পর্শী ও সম্মানজনক কমিউনিটি ভিজিল—যেখানে শ্রদ্ধা জানানো হয় এনওয়াইপিডির সাহসী বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম-এর প্রতি। তিনি শুধু একনিষ্ঠ পুলিশ অফিসারই ছিলেন না, ছিলেন বাংলাদেশি অভিবাসী কমিউনিটির গর্ব এবং মানবতার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
এই স্মরণ অনুষ্ঠানের প্রধান আয়োজক ছিল BHALO নামক একটি সেবামূলক কমিউনিটি সংগঠন। সহ-আয়োজক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে Bangladesh Society Inc. এবং Jamaica Bangladesh Friends Society।
অনুষ্ঠানের শুরুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় দিদারুল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত কামনায়। এরপর একে একে বক্তারা তাঁর আত্মত্যাগ, পেশাগত নিষ্ঠা এবং মানবিক গুণাবলির স্মরণে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন।
উপস্থিত ছিলেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা:
• স্টেট সিনেটর জন লিউ
• অ্যাসেম্বলি মেম্বার জেনিফার রাজকুমার
• মেয়র পদপ্রার্থী জোহরান মামদানি
• সিটি কাউন্সিল সদস্য নান্তাশা উইলিয়ামস
• কাউন্সিল মেম্বার লিন্ডা লি-এর প্রতিনিধি
• কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট ডোনোভান রিচার্ডস-এর প্রতিনিধি
• কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা কাটজ-এর প্রতিনিধি
• নিউ ইয়র্ক পাবলিক অ্যাডভোকেট জুমান উইলিয়ামস-এর প্রতিনিধি
তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে—ডিটেকটিভ দিদারুল ছিলেন এক সাহসী, মানবিক ও নিষ্ঠাবান পুলিশ অফিসার, যিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন মানুষের সেবায়।
“তিনি শুধু একজন পুলিশ ছিলেন না, ছিলেন এই শহরের জন্য নিবেদিতপ্রাণ এক মানবিক যোদ্ধা,”—বলেছেন এক বক্তা।
বাংলাদেশ সোসাইটির কর্মকর্তাদের বক্তব্য:
“ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ছিলেন আমাদের কমিউনিটির গর্ব। তাঁর মতো আত্মত্যাগী মানুষদের স্মরণ করা এবং তাঁদের পরিবারের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
তাঁরা আরও বলেন,
“বাংলাদেশ সোসাইটি সবসময় মানবিক মানুষদের পাশে থাকবে এবং তাঁদের সম্মানে এমন মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন অব্যাহত রাখবে।”
অংশগ্রহণ করে Bangladeshi American Police Association (BAPA):
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন Bangladeshi American Police Association (BAPA)-এর বর্তমান ও সাবেক সভাপতি-রা। তাঁরা বলেন,
“ডিটেকটিভ দিদারুল আমাদের একজন ছিলেন। তাঁর আত্মত্যাগ শুধু পেশাগত দিক থেকে নয়—এই কমিউনিটির ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায় হয়ে থাকবে।”
Jamaica Bangladesh Friends Society-এর বক্তব্য:
“দিদারুল ইসলামের সাহসিকতা, মানবিকতা এবং কমিউনিটির প্রতি ভালোবাসা আমাদের কাছে চিরস্মরণীয়। তাঁর অবদান এই শহরের ইতিহাসে লেখা থাকবে।”
এই আয়োজনে বিভিন্ন বয়স ও প্রজন্মের মানুষ অংশ নেন। এটি কেবল একজন অফিসারের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো নয়, ছিল বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য, ভালোবাসা এবং সম্মিলিত কৃতজ্ঞতার প্রতিচ্ছবি।
ছবি

































