
হাসান কল্লোল
ফুটেছে আমন ফুল, চারদিকে হেমন্তের গন্ধ
আর আলপথে হেঁটে যাওয়া সবুজ শাড়িতে
ও ট্রেনের মতো ধাবমান নারীতে
মেঠো বুনো ফুলের ঘ্রাণ!
আমার শৈশব আর আমি হেঁটে যাই
হাত ধরে পরস্পর এই রকম কার্তিকের
সন্ধ্যায় বেদনার কবিতা পড়ার পর।
আমি তখন হয়ে পড়ি
শীতের হাঁড়িতে ফোঁটা উষ্ণ কুসুম।
কখনোবা নীল— যে ফুল ফুটেছে ঘাসে
হেমন্ত বাতাসে।
যে জীবন দুরন্ত লেকের পাড়ে কাটিয়েছে
কম্পমান কাল এমন কার্তিকে
আমার বাগানবিলাসে টুনটুনি বাসা বেঁধে
ছানাদের জন্য বুঝি উড়ে গিয়ে
দানাশস্য নিয়ে আসে সেইখান থেকে!
সুদীর্ঘ পরবাসী মনে পরিযায়ী পাখি আর
ফিরবে না কিশোর বনে।
এইভাবে একদিন সূর্য যাবে ডুবে
শেষ হেমন্তের নীরব মাঠে
বহুকাল বহুযুগ জাগবে না আর॥
কুয়াশা স্নাত ভোরগুলোয় ঘুম চোখে উঠবে সবাইÑ
পেনড্রাইভে থাকবে সবই!
শুধু সেই কিশোরবেলার নীল ফুলের স্বপ্ন
আমনের সোনালি ছড়া হাতে উঠবে না আর,
খেলবে না পৃথিবীর সাথে।



