
২০ বছর অপেক্ষার পর মুক্তি পেল যে ছবি
মুকিতুল হক তূর্য
রূপসী বাংলা বিনোদন ডেস্ক: অবশেষে মুক্তি পেল অনুদানের ছবি ‘সনাতন গল্প’। অভিনেতা ও নির্মাতা মাসুম আজিজ সরকারি অনুদান নিয়ে ২০ বছর আগে ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সনাতন গল্প’–এর নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন। ২৫ ভাগ দৃশ্য ধারণের পর প্রশাসনিক ও আর্থিক জটিলতার কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। চলেছে চিঠি–চালাচালি। কেটে গেছে ২০ বছর। এরপর ২০১৬ সালে পুনরায় ছবির কাজ শুরু করলে গত বছর এর দৃশ্যধারণের কাজ শেষ হয়। সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত সপ্তাহে শুক্রবার পাবনার একটি হলে ছবিটি মুক্তি পায়।
নির্মাতা মাসুম আজিজ জানান, তাঁর ছবি মুক্তি দেওয়ার জন্য ঢাকার কোনো জুতসই প্রেক্ষাগৃহ পাননি। তাই তিনি পাবনার মধুমিতা নামের একটি হলে ছবিটির মুক্তি দিয়েছেন।
দীর্ঘ এ সময়ের ব্যবধানে ছবির অনেক কিছুতেই পরিবর্তন আনতে হয়েছে। এর মধ্যে আগের শিল্পিরা বাদ পড়েছেন। এছাড়া বাদ দিতে হয়েছে পুরোনো ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজও। শুরুতে ছবিতে উৎস জামান নামে যে শিশু অভিনয় করেছিল, সে এখন তরুণ। নতুন করে বানানো ছবির মূল চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি।

অনেকের ধারণা, সনাতন গল্প এত বছর সেন্সরে আটকে ছিল। পরিচালক বিষয়টি পরিষ্কার করলেন। তিনি জানান, ৯৭ সালের জুলাইয়ে তার সাথে তথ্য মন্ত্রণালয়ের চুক্তি হয়। ৯৬-৯৭ অর্থবছরে সরকারি অনুদান ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় তিনি ছবির কাজ শুরু করেন। সে সময়ের নিয়ম অনুযায়ী এর বাইরে এফডিসি থেকে ১০ লাখ টাকা সহায়তা পাওয়ার কথা।’ ছবির কাজ শুরুর পর প্রথম কিস্তিতে তথ্য মন্ত্রণালয়ে থেকে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পান। এরপর সিনেমাটির ২৫ ভাগ দৃশ্য ধারণের পর প্রশাসনিক ও আর্থিক জটিলতার কারণে শুটিং বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০১৬ সালে হাতে আসে বরাদ্দের বাকি ৮ লাখ টাকা। এই মোট ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় ২০১৭ সালে ছবির কাজ শেষ করতে হয়েছে। কারণ বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী এফডিসি কোন সহায়তা দেয়নি।
তিনি জানান, ‘অল্প বাজেটের কারণে ছবিতে তেমন কোনো তারকা রাখতে পারেননি। সবকিছুই নিজেই সামলেছি। শুরুতে তখন সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রওশন জামিল, শমী কায়সার, তৌকীর আহমেদ, নাজমা আনোয়ার, শহিদুল আলম সাচ্চু, ফজলুর রহমান বাবু প্রমুখ। তাদেরকে এখন বাদ দিতে হয়েছে। নতুন করে যারা অভিনয় করেছেন তারা হলেন, মাসুম আজিজ, সাবিহা জামান, উৎস জামান, জয়রাজ, তুষার মাহমুদ, তাহমীনা কৃতিকা প্রমুখ।
ঢাকায় ভালো কোনো হলে ছবিটি মুক্তি দিতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ ছবি মুক্তির জন্য ঢাকার কোনো জুতসই প্রেক্ষাগৃহ পাননি। তাই পাবনার মধুমিতা নামের একটি হলে ছবিটির মুক্তি দিয়েছেন।



