
অল্পের জন্য আন্ডারওয়ার্ল্ডে যোগ দেননি নানা পাটেকর
ভারতের প্রখ্যাত অভিনেতা নানা পাটেকর গত বৃহস্পতিবার গোয়ায় নিজ বাড়িতে মারা যান। তাকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
বলিউডে বেশ কিছু শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ৭৫ বছর বয়সি এই অভিনেতার সুনাম রয়েছে। তবে মুম্বাইয়ের অপরাধ জগতের সঙ্গে তার পরোক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল। মুম্বাইয়ের কুখ্যাত গ্যাংস্টার মনোহর মানিয়া সুরভের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা ছিল। গ্যাংস্টার মানিয়া সুরভে ছিলেন নানা পাটেকরের মামাতো ভাই।
এক সাক্ষাৎকারে গ্যাংস্টার মানিয়া সুরভেকে নিয়ে আলাপ করেছিলেন নানা পাটেকর। মানিয়া সুরভের কাছ থেকেই গ্যাংস্টার চরিত্র সম্পর্কে ধারণা পেয়েছিলেন তিনি।
তবে এই অভিনেতার মা তাকে অপরাধ জগতের প্রভাব থেকে দূরে রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন।
নানা পাটেকর জানিয়েছিলেন, অপরাধ জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত আত্মীয়দের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পরিবার নিয়ে মুম্বাই ছেড়েছিলেন তার মা।
কৌন বানেগা করোরপতির ১৬তম সংস্করণের এক পর্বে নানা পাটেকর স্মৃতিচারণ করে বলেন, অভিনয়ের পথ বেছে না নিলে তিনি হয়তো আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তেন।
তিনি বলেন, শৈশবে এমন লোকজনের সংস্পর্শে থাকায় তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, অপরাধীরা কেমন আচরণ করে।
মনোহর মানিয়া সুরভে কে?
মুম্বাইয়ের কৃতি কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা মনোহর মানিয়া সুরভে অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়েন। সত্তর ও আশির দশকে মুম্বাই শহরের অপরাধ জগতের অন্যতম পরিচত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।
একটি হত্যা মামলায় তাকে কারাগারে নেওয়া হয়। তবে সেখান থেকে পালিয়ে মুম্বাইয়ে ফিরে আসেন। এরপর নিজের গ্যাং বানান এবং পরবর্তী সময়ে পাঠান গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।
কুখ্যাত ডন দাউদ ইব্রাহিমের বড় ভাই শাবির ইব্রাহিমকে ১৯৮১ সালে গুলি করে হত্যা করেন মানিয়া। এরপর মুম্বাইয়ে গ্যাং ওয়ার চরম আকার ধারণ করে।
এক বছর পর ১৯৮২ সালে মুম্বাইয়ের ওয়াদালা এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন মানিয়া সুরভে। এ ঘটনায় নিয়ে ২০১৩ সালে ‘শুটআউট অ্যাট ওয়াদালা’ নামের একটি সিনেমা নির্মিত হয়েছিল। সূত্র: মানি কন্ট্রোল



