
বিপুল চন্দ্র রায়
আমারো কিছু স্বপ্ন ছিলো
পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত বাস্তুভিটায়,
ত্রিসন্ধ্যায় প্রজ্জ্বলিত করব ধূপকাঠি, ইষ্ট আরাধনায়।
আমারো কিছু স্বপ্ন ছিলো
পৈতৃক ভিটা নাড়ি ছেঁড়া শেকড়ে,
স্বজন-পরিজন ও সুহৃদমণ্ডলীর সান্নিধ্যে
এ জনম কাটাবো আঁকড়ে।
আমারো কিছু স্বপ্ন ছিল
প্রেম হবে, বিয়ে করব, সংসার হবে,
অনাগত ভবিষ্যতের পানে চেয়ে
এক সুসংহত সংসার গড়ার প্রতিজ্ঞা করব।
হৃদয় কোণে এক প্রেয়সীর স্নিগ্ধ উপস্থিতি
আমাকে প্রেমিক পুরুষ বানাবে।
বউয়ের সান্নিধ্য কামনায়
প্রিয়তমা সম্বোধনে শিহরিত পরম তৃপ্তি
আমাকে গার্হস্থ্য সুখের আত্মিক গুরু বানাবে।
আমিও স্বপ্ন দেখেছি…
অথচ—
স্বপ্ন আর বাস্তবের মাঝে বয়ে গেছে কত নদী!
সেসব স্মৃতি অবলুপ্ত কুহেলিকায়,
আজ ঘর ছাড়ার দীর্ঘশ্বাসে কুয়াশা জমেছে বুকের ভেতর।
আমি গৃহত্যাগী!
বাস্তুভিটা আছে, কিন্তু নেই সেই চিরচেনা স্বজনেরা।
আজও অভিমানী পথিকের মতো
আমি পথ হারিয়ে দাঁড়িয়ে আছি
এক অচিন শহরের ধূসর স্টেশনে একাকী।



