
আসন্ন বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচনে সেলিম-আলী পরিষদের ঐক্য, প্রগতি ও কমিউনিটি সেবার অঙ্গীকার
স্বচ্ছতা, নাগরিক সহায়তা ও নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার প্রতিশ্রুতি
হুমায়ূন কবীর ঢালী:
নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক.-এর আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে কমিউনিটিতে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও ব্যস্ততা। নির্বাচনে আতাউর রহমান সেলিম ও মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বাধীন সেলিম-আলী পরিষদ ঐক্য, প্রগতি, স্বচ্ছতা ও কমিউনিটি সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
প্রতিষ্ঠার পর পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ সোসাইটি প্রবাসে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং প্রবাসীদের বিভিন্ন সংকট ও প্রয়োজনে পাশে থাকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আইনি ও নাগরিক সহায়তা, সামাজিক কল্যাণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি তুলে ধরার ক্ষেত্রেও সংগঠনটির ভূমিকা রয়েছে।
সোসাইটির এই দীর্ঘ পথচলাকে আরও গতিশীল ও সময়োপযোগী করার প্রত্যয় নিয়ে গঠিত হয়েছে সেলিম-আলী পরিষদ। পরিষদের নেতৃবৃন্দের মতে, তাঁদের নির্বাচনী লক্ষ্য সাধারণ প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও চাহিদার ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়েছে।
পরিষদ সংশ্লিষ্টদের দাবি, নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁদের পক্ষে কমিউনিটিতে ব্যাপক সাড়া সৃষ্টি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রবাসের অন্যতম আঞ্চলিক সংগঠন বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটি ইউএসএ আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতি পদপ্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বাধীন পরিষদকে সমর্থন দিয়েছে।
বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের এই সমর্থনকে সেলিম-আলী পরিষদের পক্ষ থেকে তাঁদের নেতৃত্বের প্রতি আস্থার প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিষদের নেতৃবৃন্দ সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এই সমর্থন তাঁদের দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহিতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
পরিষদের স্কুল ও শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হাসান জিলানী বলেন, “ঐক্যবদ্ধ সমর্থনই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার শক্তি।” তাঁর মতে, বিভিন্ন আঞ্চলিক ও মূলধারার সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ সোসাইটিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্যেই তাঁরা কাজ করছেন।
যেসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সেলিম-আলী পরিষদ
পরিষদের নির্বাচনী রূপরেখায় সোসাইটির আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাধারণ প্রবাসীদের অনুদান ও সংগঠনের বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহারের জন্য কার্যকর ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের আইনি সহায়তা, অভিবাসন-সংক্রান্ত জটিলতায় সহযোগিতা এবং মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে পরিষদ।
নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশ সোসাইটির বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা এবং নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি আধুনিক, গতিশীল ও অংশগ্রহণমূলক কমিউনিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।
প্রবাসে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যু হলে তাঁর মরদেহ দেশে পাঠানো অথবা স্থানীয়ভাবে দাফনের ক্ষেত্রে আর্থিক ও প্রশাসনিক সহায়তা আরও দ্রুত ও সহজ করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারে।
কল্যাণমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিষদ নিয়মিত বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বৈশাখী মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্ট ও সাহিত্য আড্ডা আয়োজনের মাধ্যমে নিউইয়র্কে বাংলা সংস্কৃতির চর্চা জোরদার এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার কথা বলেছে।
একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সব শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে বাংলাদেশ সোসাইটিকে প্রকৃত অর্থে ‘সকল প্রবাসীর ঘর’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সেলিম-আলী পরিষদ।
পরিষদ সংশ্লিষ্টদের মতে, আতাউর রহমান সেলিম ও মোহাম্মদ আলীর দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ড, কমিউনিটির বিভিন্ন সংকটে পাশে থাকা এবং সংগঠন পরিচালনায় তাঁদের অভিজ্ঞতা সাধারণ প্রবাসীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে। তাঁদের প্রত্যাশা, নির্বাচনে ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সমর্থন তাঁদের পরিষদকে এগিয়ে রাখবে।
তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত হবে ভোটারদের সিদ্ধান্তে। আসন্ন বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচন তাই শুধু নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয় নয়—প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহত্তর স্বার্থ, ঐক্য, প্রতিনিধিত্ব ও ভবিষ্যৎ কমিউনিটি নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



