
জগলুল হায়দারের দুটি ছড়া
বেগমগঞ্জের গম
বেগমগঞ্জের গম দ্যাখো আজ বেগমগঞ্জের দুঃখ
এসব দেখে মেজাজ তোমার হতেই পারে রুক্ষ।
হইলে তাতে কার আসে যায় সবাই কেমন ব্যস্ত
মানবতার মামলা এখন পশুর হাতেই ন্যস্ত।
পশুর থেকে তাই পাশবে ঘটায় এমন কাণ্ড
ব্যথায় ব্যথায় ভরছে দ্যাখো লালসবুজের ভাণ্ড।
সিলেট গেলে রাজশাহী আর তা গেলে ফের অন্য
সিরিয়ালে আসলো গজব বেগমগঞ্জের জন্য।
বেগমগঞ্জ, সাহেববাজার দেশটা ভয়ের মঞ্চ
নয় নিরাপদ ট্রেন বাস আজ নয় তো অটো লঞ্চও।
ইভেন বাড়িঘরেও নারী হচ্ছে এমন ধর্ষিতা
তবু তুমি দিচ্ছো ভাষণ, ভাষণ অনলবর্ষী তা!
ছিঁড়লো নারী ঘরে এসে স্বামীকে তার বেন্ধে
লাভ কি বলো হাত গুটিয়ে কেবল শুধু কেন্দে?
খোদার আরশ কাঁপলে কাঁপুক এরা এখন অন্ধ
নেকড়ে থেকেও হচ্ছে ভয়াল পাইলে নারীর গন্ধ।
একটা একটা ঘটনাতে একই ভাষণ চলছে রে
পারলে করেন বিহিত কিছু এসব ছেঁদো বোল ছেড়ে।
ভাষণ ধুইয়া পানি খাইয়া আর মেটে না তেষ্টা রে
প্রতিবাদের কারেন্ট কোথায়? পাই না খুঁজে টেস্টারে!
গর্জে উঠেন
‘এই গরু তুই যা সরে নয়
পুস্প ছুঁড়ে মারবো’
এই প্রতিবাদ আল্লাদে কি
রুখতে ওদের পারবো।
ওরা সিমার জাত হারমি
পাওয়ার গাছে দুলবো
ওরা কি আর খুব সহজে
বিচার দণ্ডে ঝুলবো।
ঝুললে পরেই লাভ কি বলেন
এ সম্ভ্রমের মূল্য
কে দিবে কন নয় তো এটা
অন্য কিছুর তুল্য।
পাড়ায় পাড়ায় পাহারা হোক
মা-বোনদের জন্য
এই বুনোদের প্রতিরোধে
হলাম না হয় বন্য।
ওদের তরে হাজার লানত
কোটি প্রাণের ঘিন্না
ওদের হবে গণবিচার
এখন রাখেন চিন্না।
ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডাকে তবে
দেশ করিতে শুদ্ধ
ধর্ষকদের বিনাশে চাই
একটা গণযুদ্ধ।
একটা নারীর ইজ্জতে হাত
আর দিলে, হাত কাইট্টা
ধরাই দিমু ওদের হাতে-
গর্জে উঠেন ফাইট্টা!




